অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলছেন ব্যাংক খাত এখন অনেকটা স্থিতিশীল

অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সুদহার কমানো কোনো সহজ কাজ নয়। তার মতে, সুদহার নির্ধারণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা শুধুমাত্র এক-দুই পদক্ষেপে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সুদহার এবং ব্যাংক খাতের অন্যান্য আর্থিক উপকরণ যেমন ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্রের সুদের সঙ্গে গভীর সম্পর্কযুক্ত। তবে সম্প্রতি ট্রেজারি বিলের সুদহার ১২ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমেছে, যা ব্যাংক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ এর সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ এর বোর্ড অব এডিটরসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিন এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুবুর রহমান। গ্রন্থটির স্বাগত বক্তব্য দেন নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও প্রকল্প পরিচালক আবদার রহমান।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “সুদহার কমানো বা বাড়ানো মানে পুরো অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে। এটি এক ধরনের বেলুনের মতো; একদিকে চাপ দিলে অন্যদিকে ফুলে যেতে পারে। তবে সুদহার সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত নয়। ট্রেজারি বিলের সুদহার কমেছে ১০ শতাংশে। মূল্যস্ফীতিও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শুধু সুদহার নিয়ন্ত্রণ করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।”

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, অর্থনীতির অবস্থা বোঝার পাঁচটি মূল দিক হলো:

  1. ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও রিজার্ভের অবস্থা

  2. উদ্যোক্তাদের আস্থা ও স্বস্তি, ক্ষুদ্র থেকে বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে

  3. নীতি ও আর্থিক সহায়তার কার্যকারিতা

  4. দৈনন্দিন জীবনে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্বস্তি

  5. সুশাসন ও তথ্যের যথাযথ নিশ্চিতকরণ

বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার উল্লেখ করেন, “কিছু ব্যাংকের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ অন্যদের হাতে চলে গেলে সুদহার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়। আশা করা যায়, সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।”

অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার জানান, “বিগত বছর দেড়েক আগে এলসি নিষ্পত্তির জন্য প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ করতে হতো, এখন তা আর প্রয়োজন নেই। কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়নি।”

সম্প্রতি সুদহার ও মূল্যস্ফীতির সংক্ষিপ্ত তথ্য (২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী)

আর্থিক উপকরণপুরনো সুদহারনতুন সুদহারমন্তব্য
ট্রেজারি বিল১২–১৩%১০%স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি
সঞ্চয়পত্র৬–৭%৬–৭%পরিবর্তন নেই
মূল্যস্ফীতি৫.৫%৫.৭%সামান্য বৃদ্ধি

Leave a Comment