বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবাহ বজায় থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় অব্যাহত রেখেছে। এতে প্রথম দিকে রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর তা কমে ৩৪.১০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯.৩৮ বিলিয়ন ডলার।
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২১ সালের আগস্টে পৌঁছেছিল। এরপর প্রচুর ডলার বিক্রির কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় রিজার্ভ ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থপাচারের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ ও হুন্ডি লেনদেনের সীমিতকরণের কারণে বৈধ পথে প্রবাসী রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পায়।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২,৩৫৩ কোটি ডলার। একই সময়ে আগের অর্থবছরে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল ১,৯২৬ কোটি ডলার। এতে গত বছর তুলনায় ২২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ ডলারের বাজার দরকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বৈধভাবে আসা রেমিট্যান্স ডলার সরবরাহ বাড়িয়ে ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে সাম্প্রতিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো:
| বিষয় | পরিমাণ (বিলিয়ন/কোটি ডলার) | সময়কাল / মন্তব্য |
|---|---|---|
| রিজার্ভ (মার্কিন ডলার) | ৩৫.৪৯ | বাজার থেকে ক্রয় করার পর সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ |
| আকু দায় পরিশোধের পর রিজার্ভ | ৩৪.১০ | জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পরে |
| আইএমএফ অনুযায়ী রিজার্ভ (বিপিএম৬) | ২৯.৩৮ | আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হিসাবকৃত |
| ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ | ৪৮ | আগস্ট ২০২১ |
| রেমিট্যান্স (চলতি অর্থবছর) | ২,৩৫৩ কোটি | ১ জুলাই–৭ মার্চ |
| রেমিট্যান্স (গত অর্থবছর একই সময়ে) | ১,৯২৬ কোটি | বৃদ্ধির হার ২২%+ |
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে বিদেশি মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে এবং ডলারের বাজার দর স্থিতিশীল থাকছে। পাশাপাশি, এটি দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও সরকারি ব্যয় পরিচালনার জন্য একটি সুদৃঢ় পুঁজির উৎস হিসেবে কাজ করছে।
