বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন ও রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক লেনদেনের কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ের চাহিদাও বেড়ে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশি টাকার বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক এবং সাধারণ জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্যে বাংলাদেশি টাকার মান দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুদ্রা ইউরোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিময় হার ১৪৩ টাকা ৫৮ পয়সা। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ডের বিনিময় হার ১৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা, যা সাধারণ লেনদেনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মূল্য ৮১ টাকা ৩৫ পয়সা, জাপানি ইয়েন ৭৮ পয়সা, এবং কানাডিয়ান ডলার ৮৮ টাকা ৮১ পয়সা। সুইডিশ ক্রোনার সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিময় হার ১৩ টাকা ২১ পয়সা, এবং সিঙ্গাপুর ডলার ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা। এছাড়া, চীনা ইউয়ান রেনমিনবির সঙ্গে বিনিময় হার ১৭ টাকা ৩৪ পয়সা, ভারতীয় রুপি ১ টাকা ৩৫ পয়সা, এবং শ্রীলঙ্কান রুপি ২ টাকা ৫২ পয়সা।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, কিছু মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় মুদ্রার মূল্যও প্রকাশ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময় হার ২৯ টাকা ৯৩ পয়সা, সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৫৬ পয়সা এবং কুয়েতি দিনার ৩৯৮ টাকা ১৫ পয়সা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার দেশীয় বাজারে আমদানি-রপ্তানির ব্যালান্স, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের পাউন্ড ও ইউরোর বিনিময় হারের ওঠানামি রপ্তানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে, এ ধরনের বাজারের পরিবর্তন সময়-সময়েই স্বাভাবিক, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মুদ্রার মানকে প্রভাবিত করে।
