আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ধোঁকা-ধাঁধার অর্থ পুনরুদ্ধার

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান হাবিব মানসুর জানিয়েছেন, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ আন্তর্জাতিক আইনগত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে বিদেশে পলাতক অর্থ লন্ডারারদের বিরুদ্ধে ন্যায়িক পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (FY26) মুদ্রানীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। ড. মানসুর বলেন, “বর্তমানে ১২টি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম, যা বিশেষায়িত আইনফার্ম এবং মামলার প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। এদের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে পলাতক বা লন্ডার হওয়া অর্থ সনাক্ত ও পুনরুদ্ধার করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার জানা অনুযায়ী, অধিকাংশ ব্যাংক এই কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং তারা মূলত সিভিল মামলা দায়েরের মাধ্যমে অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, যেখানে অপরাধীদের স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অনুসরণ করতে পারে না।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ক্রস-বর্ডার অর্থ লন্ডারিং নেটওয়ার্কের ক্রমবর্ধমান জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো আশা করছে দ্রুত ও কার্যকর পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। ড. মানসুর বলেন, “যদিও ক্রিমিনাল মামলা অপরিহার্য, তবুও সিভিল মামলা দ্রুত এবং সরাসরি অর্থ পুনরুদ্ধারে সহায়ক।”

কনসোর্টিয়ামগুলো মূলত সম্পদ সনাক্তকরণ, ক্রস-বর্ডার লিগ্যাল লেনদেন এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বিশেষজ্ঞ। তাদের সহযোগিতা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর জন্য বড় অঙ্কের বিদেশে স্থানান্তরিত অর্থ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়াবে।

ব্যাংক-অন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম চুক্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

প্যারামিটারবিস্তারিত
কনসোর্টিয়ামের সংখ্যা১২
মামলার ধরনশুধুমাত্র সিভিল লিগ্যাল মামলা
অংশগ্রহণকারী পক্ষবাণিজ্যিক ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক আইনফার্ম
উদ্দেশ্যবিদেশে লন্ডার হওয়া বা পলাতক অর্থ পুনরুদ্ধার
আইনগত ফোকাসসম্পদ সনাক্তকরণ, ক্রস-বর্ডার কার্যক্রম, লিগ্যাল মামলা

ড. মানসুর বলেন, “যদিও প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তবে এই চুক্তি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সচ্ছলতা রক্ষা এবং ভবিষ্যতে আর্থিক অসদাচরণের প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

Leave a Comment