দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অর্থ পাচার রোধের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (বিএফআইইউ)-এর প্রধান হিসেবে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভিজ্ঞ কর কমিশনার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুনকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
নিয়োগের প্রশাসনিক মর্যাদা ও সময়সীমা
উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে, ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের সমান মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এটি একটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, যার মেয়াদ হবে তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর। সরকারের এই সিদ্ধান্ত মূলত দেশের আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিয়োগের শর্ত ও আইনি বাধ্যবাধকতা নিচে সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
বিএফআইইউ প্রধান পদের নিয়োগ সংক্রান্ত মূল তথ্য
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ ও শর্তাবলি |
| নিযুক্ত কর্মকর্তার নাম | ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন |
| নিয়োগকৃত সংস্থা | বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) |
| আইনি ভিত্তি | মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৪ (১) (ঘ) |
| নিয়োগের ধরণ | চুক্তিভিত্তিক ও সার্বক্ষণিক |
| পদমর্যাদা | ডেপুটি গভর্নর (বাংলাদেশ ব্যাংক) |
| মেয়াদকাল | ০২ (দুই) বছর |
| বিশেষ শর্ত | অন্য সকল সংস্থা বা সংগঠনের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে |
নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও আইনি গুরুত্ব
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১৫ সালে সংশোধিত) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক ইখতিয়ার উদ্দিনকে এই পদে আসীন করা হয়েছে। বিএফআইইউ প্রধান একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর পদ হওয়ায়, শর্ত দেওয়া হয়েছে যে দায়িত্ব গ্রহণকালে তিনি অন্য কোনো লাভজনক পেশা বা সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্য হলো সংস্থার নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা।
অভিজ্ঞতা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন দীর্ঘদিন রাজস্ব বিভাগে দায়িত্ব পালনের সুবাদে কর ফাঁকি ও অর্থের অবৈধ প্রবাহ শনাক্তকরণে বিশেষ পারদর্শী। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং হুন্ডি প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে। বিএফআইইউ মূলত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে থাকে এবং প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তথ্য সরবরাহ করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন এই নিয়োগের ফলে অর্থ পাচার বিরোধী অভিযানে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে। বিশেষ করে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই হবে নতুন প্রধানের জন্য প্রধান কার্যভার।
