অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ইউনিয়ন ব্যাংকের আর্থিক চিত্রে ব্যাপক অমিল ধরা পড়েছে। ২০২৩ সালের সংশোধিত প্রতিবেদনে ব্যাংকটি ২৯২ কোটি টাকার লোকসান দেখিয়েছে, যেখানে আগের নিরীক্ষিত হিসাবপত্রে দেখানো হয়েছিল ১৬২ কোটি টাকার মুনাফা।
ব্যাংকের ২০২৩ সালের ঘোষিত ৫% নগদ লভ্যাংশ বাতিল করে কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়নি।
এম এম রহমান অ্যান্ড কোং—যারা আগের প্রতিবেদনও তৈরি করেছিল—পুনঃনিরীক্ষা করে প্রকৃত লোকসান দেখায়। ব্যাংকের নতুন এমডি হুমায়ুন কবির জানান, “আগের ম্যানেজমেন্ট ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন করেছিল। গণমাধ্যমে অনিয়ম প্রকাশের পর অডিটররা নিজেরাই পুনঃনিরীক্ষার প্রস্তাব দেন।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫,০০০ কোটি টাকায়—মাত্র ছয় মাসে ২৫ গুণ বৃদ্ধি। খেলাপির হার লাফিয়ে উঠেছে ৮৭ শতাংশে।
এস আলম গ্রুপের অধীন নিয়ন্ত্রণকালীন সময়ে ব্যাংকটি বিপুল পরিমাণ ঋণ তাদের নিজস্ব ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির মোট ২৮,৫৩৩ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে এস আলম গ্রুপের ঋণই ২০,৬৩৪ কোটি টাকা।
এস আলম গ্রুপ সরাসরি ২৪টি ও পরোক্ষভাবে ২৫৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব ঋণ নিয়েছে। কিন্তু ঋণ আদায়ের হার নগণ্য, যার ফলে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রকাশিত ১.৩৫ লাখ কোটি টাকার নতুন খেলাপি ঋণের ১৮ শতাংশ দায়ী এই ব্যাংক।
এদিকে, একই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকও ২,২৫৯ কোটি টাকার লোকসান গোপন রেখে ১২৮ কোটি টাকার মুনাফা দেখিয়েছিল, যা পরবর্তীতে অডিটে উন্মোচিত হয়।
