ইসলামী ব্যাংকিংয়ে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অব্যাহত

দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতে ২০২৫ সালের শেষে আমানত ও বিনিয়োগে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেলেও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে এ খাতের সামগ্রিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রবণতাই পরিলক্ষিত হয়েছে।

Bangladesh Bank-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকসমূহে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪.৮১ লাখ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে এ পরিমাণ ছিল ৪.৭০ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক প্রান্তিকে আমানত বেড়েছে ১০,৮৭৬ কোটি টাকা বা ২.৩১ শতাংশ। অন্যদিকে, বার্ষিক ভিত্তিতে আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে ৪১,৪৩৪ কোটি টাকা বা ৯.৪২ শতাংশ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪.৪০ লাখ কোটি টাকা। একই সময়ে দেশের মোট ব্যাংকিং খাতের আমানতের ২৪.৩৮ শতাংশ ছিল ইসলামী ব্যাংকগুলোর দখলে।

বিনিয়োগ, যা সাধারণত ঋণ ও অগ্রিম হিসেবে বিবেচিত হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ৫.২৫ লাখ কোটি টাকায়। এটি আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৭,৪৮৯ কোটি টাকা বা ১.৪৫ শতাংশ বেশি। বার্ষিক ভিত্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৫,৭৬১ কোটি টাকা বা ৯.৫৫ শতাংশ। দেশের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ২৯.১০ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকিং খাতের প্রধান সূচক

সূচকডিসেম্বর ২০২৪সেপ্টেম্বর ২০২৫ডিসেম্বর ২০২৫প্রবৃদ্ধি
মোট আমানত (কোটি টাকা)৪,৪০,০০০৪,৭০,০০০৪,৮১,০০০৯.৪২% (বার্ষিক)
মোট বিনিয়োগ (কোটি টাকা)৪,৭৯,০০০৫,১৭,৫১১৫,২৫,০০০৯.৫৫% (বার্ষিক)
আমানত-বিনিয়োগ অনুপাত০.৯৭০.৯৬০.৯৪হ্রাসমান
রপ্তানি আয় (কোটি টাকা)৩৮,৮২২৩৫,৫২৮৩১,৫৩১নিম্নমুখী
আমদানি পরিশোধ (কোটি টাকা)৫৩,৩৩৫৪৯,১৭৬৪৭,০০৭হ্রাস
প্রবাসী আয় (কোটি টাকা)৩১,৯১৪২৬,১৩৮২৭,৫৩৮বৃদ্ধি
শাখা সংখ্যা১,৭৪৩বৃদ্ধি
কর্মসংস্থান৫২,৫৬৫৫০,৯৪৪৪৭,৪৬০হ্রাস

২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত রপ্তানি আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১১.২৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩১,৫৩১ কোটি টাকায়। একই সময়ে আমদানি পরিশোধও ৪.৪২ শতাংশ কমে ৪৭,০০৭ কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে প্রবাসী আয় ৫.৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭,৫৩৮ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ায় তারল্য পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এদিকে, ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ খাতে মোট শাখার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৭৪৩ এবং ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর সংখ্যা হয় ৯৭৬। তবে কর্মসংস্থান কমে দাঁড়ায় ৪৭,৪৬০ জনে, যা এক বছর আগে ছিল ৫২,৫৬৫।

বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাণিজ্য অর্থায়ন জোরদার, তহবিলের দক্ষ ব্যবহার এবং বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী খাতে সহায়তা বাড়ালে এ খাতের আয় স্থিতিশীল হবে।

Dr Masrur Reaz, Policy Exchange Bangladesh-এর চেয়ারম্যান, বলেন যে আমানত ও বিনিয়োগে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ইসলামী ব্যাংকিং খাতের অন্তর্নিহিত স্থিতিশীলতার প্রমাণ। তবে তারল্য সংকট ও ঋণচাহিদা হ্রাসের কারণে ব্যাংকগুলো সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে এ খাতের গতি বজায় রাখতে কার্যকর নীতি সহায়তা অপরিহার্য।

Leave a Comment