ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক ঝুঁকি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর বার্ষিক ঝুঁকি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক খান। তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে প্রতিটি স্তরে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসই ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই আস্থা অটুট রাখতে হলে কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতার সঙ্গে ঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কেবল ব্যবসা সম্প্রসারণই একটি শক্তিশালী ব্যাংক গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য।

সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন হোসেন। তিনি ব্যাংক খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান বিশ্বে আর্থিক খাতে নানা ধরনের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। তাই প্রতিটি ব্যাংককে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবহার করে ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে সম্ভাব্য ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য দেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, ডক্টর এম কামাল উদ্দিন জাসিম এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কে এস ওমর ফারুক। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামী ব্যাংক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমির মহাপরিচালক এ এস এম রেজাউল করিম।

সম্মেলনে প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও ঢাকাস্থ বিভিন্ন অঞ্চল ও শাখার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শাখা ও অঞ্চলের প্রধানরা ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত, মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একটি কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করা এবং ব্যবস্থাপনাকে সতর্ক রাখা।

নিম্নে ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—

বিষয়বর্ণনা
সুশাসনসিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
ঝুঁকি শনাক্তকরণসম্ভাব্য আর্থিক ও কার্যক্রমগত ঝুঁকি আগেই নির্ধারণ করা
ঝুঁকি মূল্যায়নঝুঁকির মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাঝুঁকি কমাতে কার্যকর নীতি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন
সচেতনতা বৃদ্ধিকর্মকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সময়মতো ঝুঁকি শনাক্ত করা গেলে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে অনেক বড় সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই ব্যাংকের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল, সতর্ক ও সচেতন হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো অপরিহার্য। ইসলামী ব্যাংকের এ ধরনের উদ্যোগ ব্যাংকটির কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Comment