ইসলামী ব্যাংক শীর্ষে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বেড়েছে আমানত

বাংলাদেশের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় সম্প্রতি আমানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে দেশের এই সেবায় আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত শহর এলাকাতে আমানত বেড়েছে ১৩ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় তা বেড়েছে ২২.৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে এই সেবায় আমানতের পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর মাসে ৪৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছানোর ফলে গ্রাম অঞ্চলে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় সবচেয়ে বেশি আমানত সংগ্রহ করেছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, যার আমানতের পরিমাণ ৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এরপর ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক যথাক্রমে ৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, ৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা এবং ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে।

এছাড়া, গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে আমানতকারীদের হিসাব সংখ্যা ৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আমানত হিসাব রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের, যেখানে ৭৬ লাখ ১৩ হাজার ৬২১টি হিসাব রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, যার হিসাব সংখ্যা ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৭টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছর সেপ্টেম্বরে ৪.৪ শতাংশ কমেছে এজেন্টের সংখ্যা। বিশেষত অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সঙ্কোচনটি ঘটেছে। সেপ্টেম্বর শেষে দেশে মোট ২০ হাজার ৪৮৮টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ কম।

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরফান আলী বলেন, “এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামাঞ্চলে মানুষের ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানো, বিশেষত নারীদের জন্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৮৭ শতাংশ হিসাব গ্রামাঞ্চলে এবং ৫০ শতাংশ হিসাবধারী নারী। এছাড়া, এই সেবা মাধ্যমে কৃষি, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে, যা কিছু ব্যাংকের জন্য সফলতা নিয়ে এসেছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক।”

Leave a Comment