দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব এবং ব্যক্তিগত নথিপত্র তলব করেছে। গত ১৬ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ইস্টার্ন ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠান।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চিঠিতে শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের বিবরণী, জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন, পাসপোর্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের ঋণ আবেদন, শাখার প্রস্তাবনা এবং ঋণ হিসাব সম্পর্কিত সব রেকর্ডও পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব নথিপত্র আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুদককে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৪৬টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক এবং বিএফআইইউ’র তদন্তে জানা গেছে, তার, তার স্ত্রীর, এবং সন্তানের নামে মোট ১৮৭টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। এই হিসাবগুলোর মধ্যে ১৪টি শওকত আলী চৌধুরীর নামে, ১৫টি তার স্ত্রীর নামে, ৯টি তার মেয়ে জারা নামরীনের নামে, এবং ৩টি তার ছেলে জারান আলী চৌধুরীর নামে রয়েছে। এছাড়া তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ১৪৬টি হিসাব পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত এই হিসাবগুলিতে মোট ৮,৪০৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮২ টাকা জমা হয়েছিল, যার মধ্যে ৮,২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেসময় ব্যাংকগুলোর মোট স্থিতির পরিমাণ ছিল ১,০৭৩ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ১৫৮ টাকা।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, শওকত আলী চৌধুরী এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে দুটি বাড়ি এবং অন্যান্য দেশের সম্পত্তি তদন্তাধীন রয়েছে। বিএফআইইউ গত ৩০ জুন তাদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে, এবং সেগুলো এখনও জব্দ অবস্থায় রয়েছে।
এই তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং দুদক এবং বিএফআইইউ আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
