ঈদের আগে রেমিট্যান্সে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো

বাংলাদেশে ঈদকে সামনে রেখে মার্চ ২০২৬-এর প্রথম দুই সপ্তাহে প্রবাসী কর্মীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স প্রবাহ $২.২ বিলিয়ন (প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা) পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য থেকে জানা গেছে। এই পরিমাণে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত, বেসরকারি এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আসা অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে মোট $৩৭২.৪৯ মিলিয়ন রেমিট্যান্স এসেছে। এদের মধ্যে আগ্রাণী ব্যাংক সর্বোচ্চ $১৬৪.৫২ মিলিয়ন রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। জনতা ব্যাংক $১২৯.৯২ মিলিয়ন এবং সোনালি ব্যাংক $৬৩.০৮ মিলিয়ন রেমিট্যান্স যোগ করেছে।

বিশেষায়িত ব্যাংক

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক $২৭২.৮৮ মিলিয়ন রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক

বেসরকারি ব্যাংকরা মোট রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় অংশ নিয়েছে, যা $১.৫৫ বিলিয়ন। এই বিভাগের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সর্বোচ্চ $৩৯৫.২৯ মিলিয়ন রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। ব্র্যাক ব্যাংক $২২৮.২৪ মিলিয়ন এবং ট্রাস্ট ব্যাংক $১৬২.৫৩ মিলিয়ন রেমিট্যান্স পেয়েছে।

বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক

বিদেশি ব্যাংকগুলোর অবদান সবচেয়ে কম, মোট $৪.৫৪ মিলিয়ন। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক $৩.৩৭ মিলিয়ন রেমিট্যান্স আনার মাধ্যমে এগিয়ে রয়েছে।

নিচের টেবিলে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ সংক্ষেপে দেখানো হলো:

ব্যাংক শ্রেণিব্যাংকের নামরেমিট্যান্স (মিলিয়ন ডলার)
রাষ্ট্রায়ত্তআগ্রাণী ব্যাংক164.52
রাষ্ট্রায়ত্তজনতা ব্যাংক129.92
রাষ্ট্রায়ত্তসোনালি ব্যাংক63.08
বিশেষায়িতবাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক272.88
বেসরকারিইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ395.29
বেসরকারিব্র্যাক ব্যাংক228.24
বেসরকারিট্রাস্ট ব্যাংক162.53
বিদেশিস্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক3.37
বিদেশিঅন্যান্য বিদেশি ব্যাংক1.17

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঈদের আগে রেমিট্যান্সের এই বৃদ্ধি প্রবাসীদের পরিবারে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বড় অংশের অবদান দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও সক্রিয় করে তুলছে।

বাংলাদেশে প্রবাসী কর্মীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশীয় মুদ্রার মান ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে প্রবৃদ্ধি ও খুচরা খাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

Leave a Comment