দেশের অন্যতম প্রাচীন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক Uttara Bank PLC তাদের সম্প্রসারণ কার্যক্রমে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে ব্যাংকটি তাদের ৫০তম সাব-শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে। সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই শাখার কার্যক্রম শুরু হয়, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিস্তার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) খন্দকার আলী সামনুন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট জোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও জোনাল প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা শমশেরনগরের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই অঞ্চলে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তরা ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের আস্থার প্রতীক। গত এক দশকে ব্যাংকটি শাখা পুনর্বিন্যাস, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সাব-শাখা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সাব-শাখাগুলো সাধারণত সীমিত জনবল কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হলেও গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় সব মৌলিক সেবা নিশ্চিত করে থাকে।
শমশেরনগর চা-বাগান, প্রবাসী আয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা নির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিচিত। ফলে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সাব-শাখা স্থাপন স্থানীয় উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন সাব-শাখার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ব্যাংকের নাম | উত্তরা ব্যাংক পিএলসি |
| সাব-শাখার নাম | শমশেরনগর সাব-শাখা |
| অবস্থান | কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার |
| বিভাগ | সিলেট |
| উদ্বোধন করেন | খন্দকার আলী সামনুন, ডিএমডি |
| তত্ত্বাবধায়ক জোন | সিলেট জোন |
| সারাদেশে মোট সাব-শাখা | ৫০টি |
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই সাব-শাখায় কেন্দ্রীয় কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা থাকবে। গ্রাহকরা আমানত গ্রহণ ও উত্তোলন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ঋণ, প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকরণ, তহবিল স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং এটিএম সেবাসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা সুবিধা পাবেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, এই সম্প্রসারণ জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই ব্যাংকের লক্ষ্য।
৫০তম সাব-শাখার যাত্রা উত্তরা ব্যাংকের জন্য শুধু একটি সাংগঠনিক অর্জন নয়; বরং এটি দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
