আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অর্থায়নে অসামান্য সাফল্য ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারো সেরার মুকুট অর্জন করেছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বাংলাদেশ। মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউরোমানি ট্রেড ফিন্যান্স সার্ভে ২০২৬’-এ ব্যাংকটি টানা ৮ম বারের মতো বাংলাদেশের এক নম্বর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী টানা ৯ম বছর এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ৭ম বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখে নিজেদের বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এইচএসবিসি বাংলাদেশ এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের তথ্য প্রকাশ করে।
Table of Contents
ইউরোমানি জরিপ ও স্বীকৃতির মানদণ্ড
বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘ইউরোমানি’ প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংকের ট্রেড ফিন্যান্স বা বাণিজ্যিক অর্থায়ন সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই জরিপ পরিচালনা করে। এবারের জরিপটি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত ও অংশগ্রহণমূলক। বিশ্বের ৯৬টি দেশের প্রায় ১২ হাজার ৭০০ ট্রেড ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ এবং কর্পোরেট ট্রেজারারদের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে এই ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, এইচএসবিসি বিশ্বজুড়ে ১৮টি প্রধান বাজারের মধ্যে ১৬টিতেই শীর্ষস্থান দখল করেছে, যা ব্যাংকটির সুদূরপ্রসারী নেটওয়ার্ক এবং শক্তিশালী প্রযুক্তিনির্ভর সেবারই প্রতিফলন।
নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ও কৃতজ্ঞতা
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন:
“বাংলাদেশে ৮ম বার এবং বিশ্বব্যাপী টানা ৯ম বারের মতো এক নম্বর স্থান পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাণিজ্যের জটিলতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এমন সময়ে গ্রাহকদের এই আস্থা ও ইউরোমানির এই সম্মাননা আমাদের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমেরই সার্থকতা। আমরা গ্রাহকদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক যাত্রায় পছন্দের অংশীদার হতে পেরে আনন্দিত।”
অন্যদিকে, এইচএসবিসি বাংলাদেশের গ্লোবাল ট্রেড সলিউশনস প্রধান আহমদ রাবিউল হাসান গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন যে, উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সমাধানের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ববাজারের সাথে সংযুক্ত করার এই ধারা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা হবে।
এইচএসবিসি’র সাফল্য ও অবস্থান একনজরে
| স্বীকৃতির ক্ষেত্র | অর্জনের বিবরণ | মোট কতবার |
| বাংলাদেশ | শীর্ষ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান | টানা ৮ বার |
| বৈশ্বিক পর্যায় | বিশ্বের এক নম্বর বাণিজ্যিক অর্থায়নকারী ব্যাংক | টানা ৯ বার |
| এশিয়া প্যাসিফিক | অঞ্চলের সেরা আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান | টানা ৭ বার |
| জরিপের ব্যাপ্তি | ৯৬টি দেশের ১২,৭০০ বিশেষজ্ঞের মতামত | – |
| বাজার দখল | ১৮টি প্রধান বাজারের ১৬টিতেই শীর্ষস্থান | – |
বাংলাদেশে এইচএসবিসি’র বিবর্তন ও বর্তমান কার্যক্রম
১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে এইচএসবিসি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শুরুতে রিটেইল, করপোরেট এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং—এই তিন বিভাগেই ব্যাংকটি অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে, কৌশলগত কারণে তারা বাংলাদেশ থেকে তাদের রিটেইল বা ব্যক্তিগত ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংকটি সম্পূর্ণভাবে করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে মনোনিবেশ করছে। দেশের বড় বড় শিল্প গোষ্ঠী এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজতর করতে এইচএসবিসি এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানিমুখী শিল্পের বৈশ্বিক লেনদেনে ব্যাংকটি মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ট্রেড সলিউশন এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শাখাগুলোর সমন্বয়ে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এইচএসবিসি’র অবদান অনস্বীকার্য।
এই স্বীকৃতি কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের পেশাদারিত্ব যে আন্তর্জাতিক মানের সমকক্ষ, এটি তারই একটি শক্তিশালী প্রমাণ।
