এক দশকে বাংলাদেশে অর্ধেক তরুণ চাকরিহীন: বিশ্বব্যাংক ভাইস প্রেসিডেন্ট

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট জানিয়েছেন, গত এক দশকে বাংলাদেশে কর্মক্ষম বয়সের প্রায় অর্ধেক তরুণ কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “তরুণরা বিশেষভাবে বড় বাধার মুখে পড়েছেন। চাকরি তৈরির সুযোগ যথাযথভাবে তাদের কাছে পৌঁছায়নি।”

জোহানেস জাট আরও জানিয়েছেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখের জন্য। এর ফলে প্রায় ৫৩ লাখ তরুণ কর্মসংস্থানের বাইরে থাকছেন।

তরুণদের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি (২০১৩–২০২৩)

পরিসংখ্যানসংখ্যা (লাখ)
নতুন প্রবেশকারী তরুণ শ্রমিক১,৪০
তৈরি কর্মসংস্থান৮৭
কর্মসংস্থানবঞ্চিত তরুণ৫৩

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জাট বলেন, তিন দিনের বাংলাদেশের সফরের শেষ দিনে তিনি ঢাকা ত্যাগ করছেন। সফরের সময় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং কোন ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জাট উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপও এই অগ্রাধিকারে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে যুবক ও নারীদের জন্য চাকরি তৈরি সরকারি অগ্রাধিকার হিসাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ার কারণে দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ মৌলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি। এটি করতে হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক এমন অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করছে যেখানে বৃদ্ধি স্থানীয় কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হয়। এটি অর্জনের জন্য তারা ভৌত ও মানবিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের পাশে থাকা উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক অন্যতম। সংস্থাটি এ পর্যন্ত দেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্ত আছে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

Leave a Comment