এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি ১৩ বছর পূর্ণ করে ১৪তম বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে সম্প্রতি ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের দীর্ঘ পথচলার সাফল্য, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিকনির্দেশনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ প্রবাহ সম্প্রসারণের ওপর।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমদ আলী হোসেন প্রধানিয়া। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল যাত্রা শুরুর পর থেকে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হবে সুশাসন আরও সুসংহত করা, সেবার পরিধি বাড়ানো এবং গ্রাহক আস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম আরও শক্তিশালী করা।
চেয়ারম্যানের মতে, ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণ আদায়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এ দুটি ক্ষেত্র উন্নত হলে ব্যাংকের লাভজনকতা যেমন বাড়বে, তেমনি আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এই খাতে মোট ঋণের অংশ ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ব্যাংকটিকে আরও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমদ তৌহিদুল আলম খান জানান, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যাংকটি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিয়মনীতি অনুসরণের বিষয়কে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, গত ১৩ বছরে ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা এবং ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা, যা স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির স্পষ্ট প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, আঞ্চলিক প্রধান এবং শাখা ও উপশাখার কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও গতিশীল করার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।
বর্তমানে ব্যাংকটি সারা দেশে প্রায় ৫০০টি শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ৬০০টিরও বেশি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। মোট হিসাবধারীর সংখ্যা ২১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যাংকের প্রধান সূচকসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো—
| সূচক | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| কার্যক্রমের সময়কাল | ১৩ বছর (১৪তম বছরে পদার্পণ) |
| মোট আমানত | ১৯ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা |
| মোট ঋণ | ১৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা |
| শাখা ও উপশাখা | প্রায় ৫০০টি |
| এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট | ৬০০টির বেশি |
| মোট হিসাবধারী | ২১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি |
বিশ্লেষকদের মতে, এনআরবিসি ব্যাংকের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিস্তার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপর। সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা গেলে ব্যাংকটি আগামী বছরগুলোতে দেশের ব্যাংকিং খাতে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
