এনআরবিসি ব্যাংক ১৩ বছর অতিক্রম করে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবর্ষে প্রবেশ করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্যাংকের সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা জোরদার করার পুনর্ব্যক্তি করা হয়। অনুষ্ঠানটি ‘আস্থার আলো দেশজুড়ে’ শীর্ষক স্লোগানের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় এবং ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণের কৌশল তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। তিনি বক্তব্যে বলেন, “ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো সুশাসন নিশ্চিত করা, সেবা প্রসার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করা। আমরা চেষ্টা করব ঋণ কার্যক্রম ও খেলাপি ঋণের আদায় উন্নত করার মাধ্যমে মুনাফা বৃদ্ধি করতে এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে।”
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আলম খান অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা। ডিজিটাল ও শাখা-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হবে।”
উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম খান এবং অন্যান্য বিভাগীয় প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যাংকের বিভিন্ন জোন ও শাখা-উপশাখার কর্মকর্তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।
এনআরবিসি ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংক ১৪ বছরে প্রবেশের সাথে সাথে শাখা সম্প্রসারণ, আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
নিচের টেবিলে সম্প্রতি তিন বছরে ব্যাংকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| বর্ষ | শাখা সংখ্যা | মোট আমানত (কোটি টাকা) | মোট ঋণ বিতরণ (কোটি টাকা) | খেলাপি ঋণ হার (%) |
|---|---|---|---|---|
| ২০২১ | ১৫০ | ৫,০০০ | ৪,০০০ | ২.৮ |
| ২০২২ | ১৭৫ | ৫,৭৫০ | ৪,৫০০ | ২.৫ |
| ২০২৩ | ২০০ | ৬,৫০০ | ৫,০০০ | ২.২ |
টেবিল থেকে দেখা যাচ্ছে, শাখা ও আমানতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং খেলাপি ঋণের হার কমে আসছে। ব্যাংকের এই অগ্রগতি তাদের সেবার প্রসার ও আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।
এনআরবিসি ব্যাংক আগামী দিনে আরও নতুন শাখা উদ্বোধন, ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং স্বল্প আয়ের মানুষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রাখছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ দেশব্যাপী আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
