জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি) বা “সঞ্চয়পত্র” থেকে প্রাপ্ত সুদের উৎস কর অর্ধেকে কমিয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এবার ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এনএসসিতে প্রাপ্ত সুদে ৫ শতাংশ উৎস কর প্রযোজ্য হবে, যা পূর্বে ১০ শতাংশ ধারা অনুযায়ী ছিল।
এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন, বোর্ড ইতিমধ্যেই জাতীয় সঞ্চয় বিভাগের মহাপরিচালককে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত চিঠি প্রেরণ করেছে। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এনএসসি-তে বিনিয়োগকারী পেনশনভোগীরা সুদে করমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখবেন। অন্যদিকে, ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উৎস কর প্রযোজ্য থাকবে।
এই স্পষ্টীকরণটি এসেছে এমন সময়ে, যখন জানুয়ারি মাস থেকে ৫ লাখ টাকার নিচের বিনিয়োগেও সুদে ভুলক্রমে ১০ শতাংশ উৎস কর ধার্য হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এনবিআরের নির্দেশনার ফলে এ বিষয়ে সমস্ত বিভ্রান্তি দূর হয়েছে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ও পেনশনভোগীরা কর-হ্রাস সুবিধা পাবে।
এ বছরের শুরুতে সরকার কিছু এনএসসি প্রকল্পের সুদের হার প্রথম ছয় মাসের জন্য সাময়িকভাবে হ্রাস করেছিল। এ নিয়ে জনমনে সমালোচনা দেখা দেয়। পরে সমালোচনার প্রেক্ষিতে সুদের হার আগের পর্যায়ে পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা পূর্বের সমান সুদ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশে এনএসসি এখনও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় সঞ্চয় মাধ্যম, যা মূলধন নিরাপত্তা ও স্থির রিটার্ন প্রদান করে। এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত ক্ষুদ্র ও মধ্যম আয়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য করের বোঝা হ্রাস করে বিনিয়োগ উৎসাহ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন উৎস কর কাঠামো নিম্নরূপ:
| বিনিয়োগের পরিমাণ (টাকা) | সুদে কর হার | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ৫,০০,০০০ পর্যন্ত | ৫% | পেনশনভোগী করমুক্ত; সাধারণ বিনিয়োগকারী ৫% কর দেন |
| ৫,০০,০০০ এর বেশি | ১০% | সাধারণ উৎস কর প্রযোজ্য |
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই স্পষ্টীকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পদক্ষেপ বিনিয়োগে আস্থা বৃদ্ধি ও পরিবারের সঞ্চয় বাড়াতে সহায়ক হবে। সরকারের সমর্থিত বিনিয়োগে অংশগ্রহণে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
