এনবিএফসির আমানত বৃদ্ধি, ঋণ ছাড় কমেছে

২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে দেশের অব্যাংকীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি) সমূহের আমানতে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, তবে ঋণ ছাড় বছর ভিত্তিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এটি সেক্টরের মিশ্র কার্যকারিতার একটি পরিচায়ক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ত্রৈমাসিকের শেষ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এনবিএফসির মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৫১১.২৭ বিলিয়ন টাকা, যা জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ এর ৫০৭.২৩ বিলিয়ন টাকা থেকে ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যের ঋণ বরাদ্দ ২০২৪ সালের একই সময়ে ৬৩.৫১ বিলিয়ন টাকা থেকে ২০২৫ সালের একই সময়ে ৬০.৬১ বিলিয়ন টাকা হয়ে ৪.৫৮ শতাংশ কমেছে।

ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সামান্য হ্রাস বা বৃদ্ধি দেখিয়েছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে মোট ঋণ ও অগ্রিম, সুদসহ, দাঁড়িয়েছে ৭৮৮.২৮ বিলিয়ন টাকা, যা জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ এর ৭৭৭.৩৪ বিলিয়ন টাকা থেকে ১.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি।

ঋণ ও আমানতের বিভাগ অনুযায়ী পরিসংখ্যান

বিভাগজুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ (বিলিয়ন টাকা)অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ (বিলিয়ন টাকা)পরিবর্তন (%)
মোট আমানত৫০৭.২৩৫১১.২৭+০.৮
মোট ঋণ ও অগ্রিম৭৭৭.৩৪৭৮৮.২৮+১.৪১
অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যের ঋণ৪৮.৫৭৬০.৬১-৪.৫৮
স্থির আমানত৪৮৭.০৮৪৯০.৯৫+০.৭২
সরকারী আমানত৪৭৮৪৮৩+১.২৮

সেক্টরের গঠন অনুযায়ী, প্রাইভেট এনবিএফসি আমানতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। মোট আমানতের ৯১.৫৫ শতাংশ প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে এবং ০.৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ৪৬৮.০৫ বিলিয়ন টাকা। অন্যদিকে পাবলিক সেক্টরের আমানত বৃদ্ধি হয়েছে ০.৮৪ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৪৩.২২ বিলিয়ন টাকা

ঋণের ক্ষেত্রে পাবলিক এনবিএফসির ঋণ ও অগ্রিম বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.২২ শতাংশ, যা ১৫৫.৬৮ বিলিয়ন টাকা। প্রাইভেট এনবিএফসির বৃদ্ধি ছিল সংযমী, মাত্র ০.৭৪ শতাংশ, যা ৬৩২.৬০ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে।

ভৌগোলিক দিক থেকে ঢাকার প্রভাব ব্যাপক। ঢাকায় মোট আমানতের ৯২.৩৯ শতাংশ জমা রয়েছে, যা ১.০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭২.৩৬ বিলিয়ন টাকা। বিপরীতে, বরিশাল বিভাগের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম, মাত্র ০.১৬ শতাংশ, যা এনবিএফসির জন্য দেশের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্রের বাইরে বিস্তার বৃদ্ধিতে চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করছে।

এনবিএফসির স্থির আমানত এখনও সেক্টরের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ ত্রৈমাসিকে স্থির আমানতের শেয়ার সামান্য কমে ৯৬.০২ শতাংশে নেমেছে, তবে মোট পরিমাণ বেড়েছে ০.৭২ শতাংশ।

মোটের ওপর, এনবিএফসি সেক্টরের সামান্য উন্নতি আমানতের ক্ষেত্রে হলেও ঋণ বরাদ্দে হ্রাস পরিলক্ষিত হওয়ায় এ খাতের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও কার্যকারিতা মিশ্র চিত্র উপস্থাপন করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ভৌগোলিক বিস্তার এবং সেক্টরের পাবলিক-প্রাইভেট ভারসাম্য আগামী সময়ে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে।

Leave a Comment