দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত কাঁচাপাট রপ্তানি। এই খাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকট বিবেচনায় খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাঁচাপাট রপ্তানিকারকেরা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত পুনঃতফসিল সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
রোববার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের এ নির্দেশনা কার্যকর করার অনুরোধ জানায়। এতে বলা হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখভিত্তিক বিদ্যমান ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহককে বকেয়া স্থিতির ২ শতাংশ অর্থ এককালীন জমা দিয়ে পুনঃতফসিলের আবেদন করতে হবে। এর আগে এই সুবিধা গ্রহণের শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। তবে রপ্তানি কার্যক্রমে জাহাজীকরণ জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন, কাঁচামালের মূল্য অস্থিরতা এবং অর্থপ্রাপ্তিতে বিলম্বসহ নানা কারণে অনেক রপ্তানিকারক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ। পরিবেশবান্ধব তন্তু হিসেবে পাটের আন্তর্জাতিক চাহিদা ক্রমবর্ধমান। কাঁচাপাট রপ্তানি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এ খাতে তারল্য সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ে।
নতুন নির্দেশনার মূল দিকগুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | পূর্বের সময়সীমা | বর্ধিত সময়সীমা | ডাউন পেমেন্ট |
|---|---|---|---|
| খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল আবেদন | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩০ জুন | বকেয়া স্থিতির ২ শতাংশ |
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পুনঃতফসিল সুবিধা রপ্তানিকারকদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। এতে তারা ঋণ নিয়মিত করে নতুন করে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ব্যাংক খাতেও খেলাপি ঋণের চাপ কিছুটা কমবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগ দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
