কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিতে ক্রেডিট কার্ড সীমা দ্বিগুণ

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে, যার মাধ্যমে ঋণসীমা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য হলো গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণ উৎসাহিত করা।

ঋণসীমা ও সুদের হার

আগের নীতিমালায় গ্রাহকরা জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারতেন। নতুন নীতিমালায় এই সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সীমা নিম্নরূপ:

ঋণের ধরনআগের সীমা (টাকা)নতুন সীমা (টাকা)
জামানত ছাড়া১০,০০,০০০২০,০০,০০০
জামানতের বিপরীতে২৫,০০,০০০৪০,০০,০০০

সুদের হারও সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সুদ কেবল বকেয়া টাকার ওপর আরোপযোগ্য এবং পুরো বিলের ওপর সুদ আরোপ করা যাবে না।

নগদ উত্তোলন ও ফি

কার্ডধারীরা তাদের মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন। তবে নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো সুদমুক্ত সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, কার্ড সচল করার আগে কোনো ফি বা মাশুল নেওয়া যাবে না। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিলম্ব ফি মাত্র একবার আরোপ করা যাবে। সুদ বা অন্যান্য চার্জ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যাংককে অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে।

গ্রাহক সুরক্ষা

নতুন নীতিমালায় গ্রাহক সুরক্ষা বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক বা তাদের নিযুক্ত রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিকভাবে হয়রানি করতে পারবে না। গ্রাহকের পরিবার, বন্ধু বা রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। বকেয়া আদায়ের জন্য ফোন কল বা সরাসরি যোগাযোগ কেবল অফিস সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

কার্ড হারানো বা চুরি হলে তাৎক্ষণিক ব্লক করার জন্য ব্যাংকগুলোকে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে।

কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা, যারা প্রধান কার্ডধারীর ওপর নির্ভরশীল, তারা সম্পূরক বা সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া, আবেদনকারীর ই-টিন সনদ এবং পরিষ্কার সিআইবি প্রতিবেদন থাকা বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিসর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণ উৎসাহিত করতেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০০৪ সালের আগের নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে এবং আধুনিক আর্থিক প্রেক্ষাপটে নিরাপদ ও স্বচ্ছ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এভাবে নতুন নীতিমালা গ্রাহক এবং ব্যাংক উভয়ের জন্যই ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুবিন্যস্ত ও নিরাপদ করবে।

Leave a Comment