কেস নং ৪৬ – কসকো ভেজিটেবল অয়েল কেস

“কসকো ভেজিটেবল অয়েল কেস” [ কেস নং- ৪৬ ]

“কসকো ভেজিটেবল অয়েল” বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব তৈল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। তারা বিদেশ হতে সোয়াবিন তেল আমদানী করে শোধনকরে দেশীয় বাজারে বিক্রী করত। কিন্তু ক্রমাগত লোকসান দেয়ার পর সরকার এটিকে একটি রুগ্ন শিল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং বিক্রীর উদ্যোগ নেয়। তখন দেশের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তা অত্যন্ত কম দামে কিনে নেয়।

প্রতিষ্ঠানটি ক্রয়ের পর তা সুষ্ঠুভাবে চালানোর অজুহাতে তিনি ব্যাংকের কাছে চলতি মূলধনের জন্য আবেদন জানান এবং তেল আমদানীক জন্য ব্যাংকে একটি ২০ কোটি টাকার L/C খোলেন। যথারীতি আমদানীকৃত পণ্য বন্দরে এসে পৌঁছায়। কিন্তু তখন উক্ত আমদানীকারক ব্যাংকে জানান যে তার কাছে পণ্য ছাড়িয়ে নেবার মত যথেষ্ট অর্থ নেই তাই তিনি ব্যাংককে তার হয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নেবার অনুরোধ জানান এবং Pledge পদ্ধতিতে গ্রুপ-এর জন্য আবেদন করেন।

ব্যাংক বাধ্য হয়ে তার অনুরোধ রাখে। এরপর তিনি ব্যাংকের গোডাউন হতে কিস্তি পরিশোষের মাধ্যমে মাত্র এক কোটি টাকার পণ্য ছাড়িয়ে নেয়ার পর ব্যাংকের সাথে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ব্যাংক সর্ব প্রকার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগযোগে কর্ণ হয়ে লোকসান হ্রাসের লক্ষ্যে বাকী পণ্য বিক্রীর উদ্যোগ নেয়।

কিন্তু ব্যাংকে দেখতে পায় যে, আমদানীকৃত অধিকাংশ তেলের ড্রামে তেল নয়। পানি রয়েছে। ব্যাংক পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধান করে জানতে পারে উক্ত অসৎ আমদানীকারক পণ্য আমদানীর পূর্বেই সরবরাহকারীর সাথে যোগসাজশ করে এই অপকর্ম করেছে।

ব্যাংকের একজন এক্সিকিউটিভ / ব্যাংকিং বিভাগের একজন ছাত্র হিসেবে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষার জন্য তোমার মতামত দাও এবং কি ব্যবস্থাগ্রহন করলে ব্যাংক এই অবস্থায় পর্যবসিত হতোনা- তা ব্যাখ্যা কর।

Leave a Comment