কোম্পানি রিটার্ন সময়সীমা এক মাস বৃদ্ধি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোম্পানি করদাতাদের জন্য ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়িয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) এনবিআরের করনীতি শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন সময়সীমা অনুযায়ী কোম্পানি করদাতারা তাদের রিটার্ন ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দাখিল করতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ) অনুযায়ী স্বাভাবিক করদাতা এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবারকে বাদ দিয়ে অন্যান্য সব কোম্পানি করদাতার জন্য এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (করনীতি) মো. একরামুল হক স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, “করদাতাদের সুবিধা এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়ানো হলো।” এর আগে কোম্পানি করদাতাদের জন্য শেষ সময় ছিল ১৫ মার্চ ২০২৬।

নতুন সময়সীমার মূল দিকগুলো নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়পুরনো সময়সীমানতুন সময়সীমামন্তব্য
রিটার্ন জমার শেষ তারিখ১৫ মার্চ ২০২৬৩০ এপ্রিল ২০২৬এক মাস বৃদ্ধি
প্রযোজ্য করদাতাকোম্পানি করদাতাকোম্পানি করদাতাস্বাভাবিক করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার বাদ
জরিমানাসময়মতো না দিলে প্রযোজ্য৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জমা দিলে প্রযোজ্য নয়অতিরিক্ত কর ও জরিমানা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না
করবর্ষ২০২৫–২৬২০২৫–২৬একই করবর্ষের জন্য প্রযোজ্য

এনবিআরের এই পদক্ষেপ মূলত কোম্পানি করদাতাদের উপর প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং যথাযথ নথি প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় সরবরাহের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লেনদেন, আর্থিক প্রতিবেদন ও হিসাবনিরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বছরভর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের জন্য জরিমানা ও অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান রয়েছে। তবে এবার সময়সীমা বাড়ানোর ফলে কোম্পানিগুলো ৩০ এপ্রিলের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো অতিরিক্ত জরিমানা বহন করতে হবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রসারিত এই সময়সীমা কোম্পানি করদাতাদের কর সংক্রান্ত নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত করার পাশাপাশি রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা করদায়ের দায়িত্ব পালনে সহায়ক এবং প্রশাসনিক চাপ হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত কোম্পানি করদাতাদের আর্থিক পরিকল্পনা ও কর সংক্রান্ত দায়-দায়িত্বের সমন্বয়ে সহায়তা করবে, যা দেশের কর ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment