ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রোলিয়াম এবং শেয়ারবাজারে বড় ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে বিনিয়োগকারীরা সোনা ও মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই ঝুঁকি কমাতে ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে বিটকয়েনে পুঁজি স্থানান্তর করছেন।
বিটকয়েনের সাম্প্রতিক প্রবণতা
ইনভেস্টোপিডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ইরান-যুক্ত সংঘাত শুরুর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি বিটকয়েনের দাম ৭২,০০০ ডলার অতিক্রম করেছে। প্রাথমিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধিকে ছোট মনে করা যেতে পারে, তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এবার বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েনকে ‘ডিজিটাল নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে দেখছেন।
কোয়েন ডেস্ক ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বিটকয়েনের দাম ৭৪,৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
| তারিখ | বিটকয়েনের দাম (USD) | পরিবর্তন (%) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| 28 ফেব্রুয়ারি 2026 | 72,000 | +10% | ইরান-যুক্ত সংঘাত শুরু |
| 15 মার্চ 2026 | 74,000 | +25% | বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা |
| 17 মার্চ 2026 | 74,500 | +26% | বিনিয়োগকারীদের ভরাট প্রবণতা |
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
‘আইএনআরগ্রিড স্টেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরী বলেন,
“ইরান সংঘাতের ফলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি সোনা এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় ভালো পারফর্ম করছে। বিশেষ করে যখন পুঁজি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন বিটকয়েনের গতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এটি ব্যাংক বা সরকারি অবকাঠামো ছাড়াই দ্রুত দেশান্তরযোগ্য।”
ক্রিপ্টো বনাম প্রথাগত সম্পদ
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক আছে যে বিটকয়েন কি সত্যিই সোনার মতো ‘নিরাপদ’ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না। তবে সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা স্পষ্ট করছে যে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন।
যেখানে পূর্বে সোনা ও মার্কিন ডলার ছিল অনিশ্চয়তা মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার, সেখানে বিটকয়েন তার দ্রুত স্থানান্তরযোগ্যতা, সীমিত নিয়ন্ত্রণ, এবং স্বল্প লেনদেন খরচের কারণে নতুন ‘ডিজিটাল নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন বিশ্ববাজারে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে এক নতুন বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের ক্রিপ্টো পুঁজি আরও বৃদ্ধি পাবে, যা প্রথাগত সম্পদকে ছাড়িয়ে ডিজিটাল সম্পদকে নিরাপদ বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে, বিটকয়েনের এই বৃদ্ধি প্রমাণ করছে যে প্রযুক্তি-ভিত্তিক ডিজিটাল সম্পদ এখন শুধু বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, বরং অনিশ্চয়তার সময়ে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
