ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও আর্থিক পরিস্থিতি পুনর্গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। আগে ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করার সময় নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট একবারে পরিশোধ করতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তে এই শর্ত শিথিল করে ডাউন পেমেন্ট দুই কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো একবারে পূর্ণ অর্থ পরিশোধের চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
ডাউন পেমেন্টের নতুন নিয়ম
নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট দুই কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। আবেদনকারীরা প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫০ শতাংশ পরিশোধ করবেন। বাকি ৫০ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে দিতে পারবেন। এ ছাড়াও, যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নীতি-সহায়তা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে কিন্তু যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত সময়ে সুবিধা কার্যকর করতে পারেনি, তাদের জন্য অতিরিক্ত তিন মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নিচের টেবিলে নতুন ব্যবস্থার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | পূর্বের নিয়ম | নতুন নিয়ম | অতিরিক্ত সময় |
|---|---|---|---|
| ডাউন পেমেন্ট পরিমাণ | পুরো ১০০% আবেদন সময় | প্রথম কিস্তি ৫০%, দ্বিতীয় কিস্তি ৫০% ছয় মাসের মধ্যে | – |
| নীতি-সহায়তা কমিটির অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান | নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন | নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত তিন মাস সময় | ৩ মাস |
| সুদ মওকুফ বিষয়ক সিদ্ধান্ত | ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক ভিত্তিক | একই নিয়ম প্রযোজ্য | – |
বাস্তবায়নের প্রভাব
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী একসঙ্গে পুরো ডাউন পেমেন্ট দিতে সমস্যা অনুভব করছিলেন। নতুন ব্যবস্থা গ্রহণে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে। এছাড়া, যেসব ব্যাংক এখনো কিছু গ্রাহকের নীতি-সহায়তা সুবিধা কার্যকর করেনি, তাদের জন্যও আরও তিন মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এছাড়া সুদ মওকুফ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা পুনর্গঠনে আরও সুবিধা পাবেন।
নতুন এই নীতি মূলত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে সহজতর করে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই কিস্তিতে ডাউন পেমেন্ট এবং অতিরিক্ত সময় বৃদ্ধির ফলে পুনঃতফসিলের আবেদন বাড়বে এবং ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোবে।
মোট কথা, এই পরিবর্তন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ব্যাংক উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক এবং দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই সংস্কারে প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে আরও উৎসাহী হবে এবং ঋণ পুনঃতফসিলের লক্ষ্য আরও কার্যকর হবে।
