আইএফআইসি ব্যাংক ব্যবসা সম্প্রসারণ ও টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপশাখাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছে। এ উদ্দেশ্যে শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম ক্লাবে দিনব্যাপী আইএফআইসি ব্যাংক উপশাখা ব্যবসা সম্মেলন ২০২৬ – চট্টগ্রাম অঞ্চল অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পরিচালিত ব্যাংকটির সব উপশাখার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি ও সভাপতি ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হুসাইন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শাখা ব্যবসা বিভাগের প্রধান মো. রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. মঞ্জুরুল মুমিনসহ বিভিন্ন উপশাখার ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হুসাইন বলেন, গ্রাহকের আস্থা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত উপশাখা কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টাই আইএফআইসি ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, আর এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উপশাখাগুলোর ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গ্রাহকের নিকটবর্তী থেকে দ্রুত ও মানসম্মত সেবা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উপশাখাই ব্যাংকের মূল ভরসা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে আইএফআইসি ব্যাংক একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা তার বক্তব্যে বলেন, দেশব্যাপী বিস্তৃত উপশাখা নেটওয়ার্ক আইএফআইসি ব্যাংকের টেকসই ব্যবসা বৃদ্ধির একটি শক্ত ভিত্তি। তিনি জানান, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার অগ্রগতি এবং আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার পরিসর বাড়াতে ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যাতে গ্রাহকের পরিবর্তিত চাহিদা আরও কার্যকরভাবে পূরণ করা যায়।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি উপশাখাভিত্তিক বর্তমান কর্মদক্ষতার সূচক তুলে ধরেন এবং আগামীর ব্যবসায়িক কৌশল ব্যাখ্যা করেন। তার আলোচনায় আমানত সংগ্রহ, দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণ, ঋণ আদায় দক্ষতা ও লাভজনকতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সেরা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি প্রদান। আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ ও আদায় এবং পরিচালন মুনাফা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য মোট ১৮টি উপশাখাকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত উপশাখার সারসংক্ষেপ
| পুরস্কারের ক্ষেত্র | স্বীকৃত উপশাখার সংখ্যা |
|---|---|
| আমানত সংগ্রহ | সামগ্রিক পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত |
| ঋণ বিতরণ ও আদায় | সামগ্রিক পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত |
| পরিচালন মুনাফা অর্জন | সামগ্রিক পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত |
| মোট পুরস্কারপ্রাপ্ত উপশাখা | ১৮টি |
সম্মেলনের শেষ পর্বে প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা কৌশলগত অগ্রাধিকার, চ্যালেঞ্জ ও আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপশাখাগুলোর কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
