চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি

চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা চাকরিচ্যুতির বিষয়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা।

রোববার সকালে নগরীর একটি পাঁচতারা হোটেলের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ওই সময় তারেক রহমান একই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সকাল থেকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে জড়ো হন। তাঁদের অনেকের পরনে ছিল ‘চাকরিচ্যুত ব্যাংকার’ লেখা টি-শার্ট, যা আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে নজর কাড়ে।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল—“ন্যায়বিচার চাই, অধিকার চাই”, “গণতন্ত্র ফেরাও, চাকরি ফেরাও” এবং “ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক”। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ, ইউনিয়ন কার্যক্রম কিংবা ন্যায়সংগত দাবি তোলার কারণে তাঁদের অনেককে শাস্তিমূলকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে তারেক রহমান হোটেল থেকে জনসভায় যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা সরাসরি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁদের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

চাকরিচ্যুত ব্যাংকার ইলিয়াস হোসেন বলেন, তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা যথাযথ বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনের পর দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই অন্যায়ের প্রতিকার করবে—এই আশাতেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, গত এক দশকে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ায় চাকরিচ্যুতির ঘটনা বেড়েছে। বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার ও শ্রমাধিকারের প্রশ্ন বলেও তাঁরা মনে করেন।

নিচের ছকে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

দাবিবিস্তারিত
চাকরি পুনর্বহালঅন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের পূর্বপদে ফিরিয়ে নেওয়া
নিরপেক্ষ তদন্তচাকরিচ্যুতির ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন
আর্থিক ক্ষতিপূরণবকেয়া বেতন ও সুবিধা পরিশোধ
নীতিগত সংস্কারব্যাংকিং খাতে চাকরিচ্যুতির নিয়ম স্পষ্ট ও ন্যায়সংগত করা

অবস্থান কর্মসূচি শেষে নেতৃবৃন্দ জানান, দাবি আদায় না হলে তাঁরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাঁদের মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

Leave a Comment