টোকেনাইজড ফাইন্যান্স বা ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ঝোঁক দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ উদ্যোগে নিজস্ব নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্লকচেইন-নির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে চেক ন্যাশনাল ব্যাংক (CNB) প্রথমবারের মতো সরাসরি ডিজিটাল সম্পদ ক্রয় করেছে। এর ফলে নিষ্পত্তি, কাস্টডি, তদারকি ও বাজার কাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
চেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ নভেম্বর ঘোষণা করে যে তারা তাদের আন্তর্জাতিক রিজার্ভের বাইরে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ১০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ একটি ডিজিটাল অ্যাসেট পোর্টফোলিও তৈরি করেছে। এই পোর্টফোলিওতে বিটকয়েন, একটি মার্কিন ডলার-নির্ভর স্টেবলকয়েন এবং ব্লকচেইনভিত্তিক টোকেনাইজড ডিপোজিট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংকটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল সম্পদ ধরে রাখার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা।
প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে এটি তাদের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার কোনও কৌশলগত পরিবর্তন নয়। নিকট ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রিজার্ভে বিটকয়েন বা অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেই বলেও জানানো হয়েছে। ফলে এই পোর্টফোলিও কেবল বিশ্লেষণমূলক গবেষণা ও সক্ষমতা মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই ব্যবহৃত হবে।
নতুন পোর্টফোলিওর মাধ্যমে CNB ডিজিটাল সম্পদের কাস্টডি পদ্ধতি, অনুমোদন প্রক্রিয়া, লেনদেন নিষ্পত্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও গভীরভাবে যাচাই করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকটি ‘CNB Lab’ নামের একটি নতুন গবেষণা ইউনিট চালু করেছে, যেখানে ব্লকচেইন সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক পেমেন্ট প্রযুক্তি মূল্যায়ন করা হবে।
অধিকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে এই পাইলট প্রকল্পটি সীমিত পরিসরে থাকবে এবং আর্থিক নীতি বা মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কোন প্রভাব ফেলবে না। যদিও ডিজিটাল সম্পদের অস্থিরতা এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবুও অনেকে মনে করছেন—এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ পরীক্ষা ভবিষ্যতে আর্থিক বাজার কাঠামোর দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষত যখন বিশ্বজুড়ে টোকেনাইজেশন দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।
