জাপানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা সাকানা এআই-তে সিটির বিনিয়োগ

বিশ্বখ্যাত আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিটি (Citi) জাপানের উদীয়মান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ‘সাকানা এআই’ (Sakana AI)-তে কৌশলগত বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। সিটির ‘মার্কেটস স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট’ ইউনিটের মাধ্যমে এই অর্থায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এটি জাপানের বাজারে সিটির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো স্টার্টআপে প্রথম বিনিয়োগ, যা প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাকানা এআই-এর বিশেষত্ব ও সিটির লক্ষ্য

২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, সাকানা এআই প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত বুদ্ধিমত্তা (Nature-inspired Intelligence) ব্যবহার করে নতুন ধরনের ফাউন্ডেশন মডেল এবং এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড এআই সমাধান তৈরিতে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত বিশেষায়িত এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। সিটি মনে করে, এই বিনিয়োগের ফলে সাকানা এআই-এর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।

জাপানিজ ভাষায় ‘সাকানা’ শব্দের অর্থ মাছ। যেমনভাবে একঝাঁক মাছ সুশৃঙ্খলভাবে একত্রে চলে এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে, ঠিক সেই ধারণা থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই মডেলগুলো তৈরি করে। তারা প্রথাগত বিশাল ও ব্যয়বহুল এআই মডেলের পরিবর্তে ছোট কিন্তু কার্যকর একাধিক মডেলের সমন্বয়ে জটিল সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী।


সাকানা এআই ও সিটির বিনিয়োগের সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসিটি (মার্কেটস স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট)
গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানসাকানা এআই (Sakana AI), টোকিও ভিত্তিক
বিনিয়োগের গুরুত্বজাপানি স্টার্টআপে সিটির ইতিহাসে প্রথম বিনিয়োগ
প্রযুক্তির ধরনপ্রকৃতি-অনুপ্রাণিত ইন্টেলিজেন্স ও ফাউন্ডেশন মডেল
মূল লক্ষ্যআন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণ ও আর্থিক বিশেষায়িত মডেল তৈরি

আর্থিক খাতে এআই-এর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বর্তমানে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। সিটি এবং সাকানা এআই-এর এই অংশীদারিত্ব মূলত আর্থিক ডোমেইনগুলোতে উচ্চতর নির্ভুলতা এবং ডেটা বিশ্লেষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। আন্ডাররাইটিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক পরিষেবার মতো জটিল কাজগুলো এআই-এর মাধ্যমে এখন আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।

সাকানা এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা দলে রয়েছেন গুগল ব্রেইন-এর প্রাক্তন গবেষকরা, যারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ট্রান্সফর্মার মডেলগুলোর নেপথ্যে ছিলেন। ফলে সিটির মতো একটি বৈশ্বিক ব্যাংকের পুঁজি এবং সাকানা এআই-এর কারিগরি দক্ষতা একত্রিত হওয়ায় জাপানের প্রযুক্তি খাতের চিত্র বদলে যেতে পারে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় টোকিও-র অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সিটির এই পদক্ষেপটি কেবল মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার অংশ। বিশ্বজুড়ে যেখানে সিলিকন ভ্যালি ভিত্তিক এআই কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য, সেখানে জাপানি এই উদ্ভাবন একটি বিকল্প ও কার্যকর সমাধান হিসেবে বিশ্ববাজারে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

Leave a Comment