টানা তৃতীয়বারের মতো গ্লোবাল ব্যাংক অব দ্য ইয়ার—ডিবিএস আবারও বিশ্বসেরা

সিঙ্গাপুরভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ডিবিএস ব্যাংক আবারও অর্জন করল বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং জগতের সর্বোচ্চ সম্মান—গ্লোবাল ব্যাংক অব দ্য ইয়ার ২০২৫। দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমসের অধীনস্থ মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশনা দ্য ব্যাংকার প্রতিবছর বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও টেকসই ব্যাংকগুলোর মধ্যে সেরাদের স্বীকৃতি দেয়। এ বছর ২৯৪ ব্যাংকের মধ্যকার প্রতিযোগিতায় ডিবিএস ব্যাংক আবারও প্রমাণ করল তাদের নেতৃত্ব। এটি ডিবিএসের তৃতীয়বারের মতো এই শিরোপা জয়, এর আগে ২০১৮ এবং ২০২১ সালে তারা একই পুরস্কার পেয়েছিল।

মূল গ্লোবাল পুরস্কারের পাশাপাশি ডিবিএস পেয়েছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও খাতভিত্তিক স্বীকৃতি—এশিয়া ব্যাংক অব দ্য ইয়ার, সিঙ্গাপুর ব্যাংক অব দ্য ইয়ার, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক অব দ্য ইয়ার–এশিয়া, এবং প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক অব দ্য ইয়ার–ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস গ্রুপ। অর্থাৎ, শুধু গ্লোবাল নয়, আঞ্চলিক নেতৃত্বেও ডিবিএসের অবস্থান অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

দ্য ব্যাংকার–এর সম্পাদক–ইন–চিফ সিলভিয়া পাভোনি জানান, এশিয়ার ব্যাংকগুলো উদ্ভাবনে অগ্রগামী হলেও ডিবিএস সেই জায়গাটিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে এআই–ভিত্তিক প্রতারণা প্রতিরোধ প্রযুক্তি, কর্মীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, বহুজাতিক স্মার্ট চুক্তি (smart contracts) ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট দ্রুততর করা—এসব উদ্যোগই বিচারকদের সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। তাদের মতে, ডিবিএস শুধু প্রযুক্তি প্রয়োগেই নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে প্রকৃত উদ্ভাবনের উদাহরণ উপস্থাপন করেছে।

ডিবিএস–এর সিইও তান সু শান বলেন, “এই সম্মান আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বও বাড়িয়ে দিল। আমরা সবসময় শেখার চেষ্টা করি—ক্ষুধার্ত, নম্র এবং অভিযোজিত থাকতে চাই। নতুন প্রযুক্তি ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের প্রতি আমাদের যে অঙ্গীকার, তা ই ভবিষ্যতের অর্থনীতিকে রূপ দেবে।”

১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য ব্যাংকার বিশ্বের ব্যাংকিং জগতের অন্যতম প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা। তাদের ‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারকে ব্যাংকিং শিল্পে একপ্রকার ‘অস্কার’ ধরা হয়। সেখানে ডিবিএসের সাফল্য প্রমাণ করে এশিয়া কেবল অনুসারী নয়—নেতৃত্বও দিতে পারে।

ডিবিএস বর্তমানে ১৯টি বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং তাদের ক্রেডিট রেটিং বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের। তারা ধারাবাহিকভাবে টানা ১৭ বছর ধরে “এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাংক” খেতাব ধরে রেখেছে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের অগ্রদূত হিসেবে বিশ্বব্যাপী বেশকিছু পুরস্কারও অর্জন করেছে তারা।

ব্যাংকটি শুধু ব্যবসায়িক সফলতা নয়, বরং সামাজিক প্রভাব তৈরিতেও সক্রিয়। তাদের ডিবিএস ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

ডিবিএসের এই বিশ্বজয় প্রমাণ করছে—ভবিষ্যতের ব্যাংকিং হবে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ, দ্রুত ও মানবকেন্দ্রিক। আর সেই ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে এশিয়ারই একটি প্রতিষ্ঠান।

Leave a Comment