১৩ জানুয়ারি, রয়টার্স: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধানের হুমকির পর বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান এবং শীর্ষ ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা একযোগে তার সমর্থনে এগিয়ে এলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করছে, ফেডে বহু বছরের কাজকর্মে পাওয়েল যে সম্পর্ক তৈরি করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব কতটুকু তা।
সোমবার ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সিনেটর—যাদের মধ্যে অনেকেই ফেড চেয়ারম্যান পরিবর্তনের অনুমোদন রুখতে সক্ষম—পাওয়েলকে সমর্থন না দিয়ে হেলাফেলা করেছেন। পাওয়েলের বর্তমান মেয়াদ মে মাসে শেষ হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ফেড সদর দফতরের ২৫০ কোটি ডলারের সংস্কার প্রকল্প সংক্রান্ত তার কংগ্রেসে দেওয়া তথ্য নিয়ে সমন পাঠিয়েছে।
পাওয়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই অনুসন্ধান রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে বাধ্য হয়। এমন পরিস্থিতিতেও কিছু কংগ্রেস সদস্য, যারা সাধারণত পাওয়েলের সমালোচক, এই হুমকিকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেছেন।
সেনেটর কেভিন ক্র্যামার মন্তব্য করেছেন, “আমরা অনেকেই তার (পাওয়েলের) সাক্ষ্যাদান নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলাম, তবে তা কখনও অপরাধমূলক ছিল না।” সিনেটের বৃহত্তম নেতা জন থুন বলেন, “যদি অনুসন্ধানে কিছু সত্য পাওয়া যায়, তা অবশ্যই বৈধ হতে হবে। ফেডারেল রিজার্ভকে অবহেলা করা উচিত নয়।”
ট্রাম্প আবারও সুদের হার কমানোর দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “পাওয়েল বাজেটের ক্ষেত্রে কোটি কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ করেছেন। তাই তিনি হয় অযোগ্য, নয়তো দুর্নীতিগ্রস্ত।”
বাণিজ্যিক বাজারে এখনও মুদ্রাস্ফীতির উচ্চতার কারণে ফেডের হঠাৎ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কম। তবে নিউইয়র্ক ফেডের সভাপতি জন উইলিয়ামস এবং সেন্ট লুইস ফেডের সভাপতি আলবার্টো মুসালেম নিশ্চিত করেছেন যে, পাওয়েল বা তার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হঠাৎ নীতি পরিবর্তন করবেন না।
বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ফেডারেল রিজার্ভ এবং এর চেয়ারম্যান জেরোম এইচ. পাওয়েলের পাশে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।” জেপিমর্গান সিইও জেমি ডাইমন মন্তব্য করেছেন, “এই ধরনের অনুসন্ধান অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
নিচের টেবিলে কিছু প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমর্থন তুলে ধরা হলো:
| কেন্দ্রীয় ব্যাংক | প্রধানের নাম | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক | ক্রিস্টিন লাগার্ড | ফেড স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ |
| ব্যাংক অব ইংল্যান্ড | অ্যান্ড্রু বেল | নীতিগত স্বায়ত্তশাসন অপরিহার্য |
| ব্যাংক অব কানাডা | টিফ ম্যান | মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ |
| সুইডেন | আর্নে সোরেনসন | ফেডের স্বায়ত্তশাসন সমর্থন |
| দক্ষিণ কোরিয়া | লি জু-ই | বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য অপরিহার্য |
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে এবং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। তাই ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা এখন নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
