ডিসেম্বরে যে ব্যাংকগুলোতে রেমিট্যান্স আসেনি

সদ্য শেষ হওয়া ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে দেশে প্রবাসী আয় হিসেবে মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই মাসে সাতটি ব্যাংক একটিও রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স শূন্য থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • বিশেষায়িত ব্যাংক: রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)

  • বেসরকারি ব্যাংক: পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক

  • বিদেশি ব্যাংক: আল ফারাহ ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্সের খাতভিত্তিক বিতরণ ছিল নিম্নরূপ:

ব্যাংক খাতরেমিট্যান্স (মার্কিন ডলার)
রাষ্ট্রীয় ব্যাংক৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার
বিশেষায়িত ব্যাংক৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার
বেসরকারি ব্যাংক২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার
বিদেশি ব্যাংক৬৮ লাখ ৭০ হাজার

অপরদিকে, চলতি অর্থবছর ২০২৪-২৫ এ দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ), যা এক অর্থবছরে দেশের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে ধরা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, সুদের হার, এবং প্রবাসীদের বৈদেশিক আয় ব্যবস্থাপনা ডিসেম্বরের অপ্রত্যাশিত রেমিট্যান্স ঘাটতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্স শূন্য থাকা বিদেশি ও কিছু বেসরকারি ব্যাংকের ঘটনা প্রধানত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণে হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এখনও ধনাত্মক এবং স্থিতিশীল। তবে এই তথ্য ব্যাংকিং খাত ও অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, রেমিট্যান্স কেন্দ্রীক নীতি, ডিজিটাল ট্রান্সফার সিস্টেমের উন্নয়ন এবং প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, ব্যাংকগুলোর প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ঘটালে, রেমিট্যান্স শূন্য হওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে কমবে এবং প্রবাসী আয় আরও নির্ভরযোগ্যভাবে দেশে প্রবাহিত হবে।

Leave a Comment