চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৭ দিনে বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের মোট প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২,৭৫১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এই সময়ে সাতটি ব্যাংক কোনো রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারেনি। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স শূন্য থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুইটি বেসরকারি ব্যাংক এবং চারটি বিদেশি ব্যাংক। বিস্তারিতভাবে ব্যাংকগুলো হলো:
বিশেষায়িত ব্যাংক: রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)
বেসরকারি ব্যাংক: পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক
বিদেশি ব্যাংক: আল ফারাহ ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের মোট প্রবাহ ব্যাংকের ধরণ অনুযায়ী নিম্নরূপ:
| ব্যাংকের ধরণ | রেমিট্যান্স প্রাপ্তি (মিলিয়ন USD) | মোট প্রাপ্তির শতকরা (%) |
|---|---|---|
| রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক | 463.59 | 16.8% |
| বিশেষায়িত ব্যাংক | 290.16 | 10.5% |
| বেসরকারি ব্যাংক | 1,992.50 | 72.4% |
| বিদেশি ব্যাংক | 5.92 | 0.2% |
| মোট | 2,751.91 | 100% |
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, যেখানে মোট রেমিট্যান্সের ১৬.৮% এসেছে। তুলনামূলকভাবে, বিশেষায়িত ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর অবদান সীমিত।
অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শূন্য রেকর্ড থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য মূলত পরিচালনাগত দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং জটিল প্রক্রিয়া দায়ী। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, এসব ব্যাংক তাদের লেনদেন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল সুবিধা আরও শক্তিশালী করুক।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। তাই রেমিট্যান্স গ্রহণ ও বিতরণ প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শূন্য রেকর্ড থাকা ব্যাংকগুলিতে আন্তর্জাতিক মানের রেমিট্যান্স সুবিধা সম্প্রসারণ একটি সময়োপযোগী চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সমৃদ্ধি, বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য অবদান পড়বে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রবাসী আয় দ্রুত ও নিরাপদে দেশে আনা সম্ভব।
বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির সহায়তায় লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং গ্রাহক সেবা উন্নত করা শূন্য রেকর্ড থাকা ব্যাংকগুলির জন্য জরুরি। এর ফলে দেশীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে।
