ঢাকা ব্যাংক ও সিদ্ধেশ্বরী কলেজের কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর

Dhaka Bank PLC সম্প্রতি Siddheswari Girls’ College–এর সঙ্গে একটি কৌশলগত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য কলেজটির বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোর আওতায় আনা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, গতি এবং সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঢাকা ব্যাংকের খুচরা ব্যবসা বিভাগের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সহসভাপতি এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ বি এম মাসিউল হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শাখা ব্যবস্থাপক, শিক্ষকমণ্ডলী ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক অর্থপরিশোধ কাঠামো

নতুন ব্যবস্থার আওতায় কলেজের শিক্ষার্থীরা একাধিক মাধ্যমে বেতন ও ফি পরিশোধ করতে পারবে। নির্ধারিত ব্যাংক শাখার পাশাপাশি কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ অর্থগ্রহণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া ব্যাংকের মোবাইলভিত্তিক সেবা, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং কার্ডভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থাও চালু থাকবে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করা কিংবা কাগজভিত্তিক জটিলতা মোকাবিলা করতে হবে না।

নিচের সারণিতে চুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ উপস্থাপন করা হলো—

বৈশিষ্ট্যবিবরণ
বহুমাধ্যমে পরিশোধশাখা ব্যাংকিং, ক্যাম্পাসভিত্তিক বুথ, মোবাইলভিত্তিক সেবা ও কার্ডের মাধ্যমে অর্থ প্রদান
তাৎক্ষণিক হালনাগাদঅর্থ পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিতকরণ বার্তা ও তথ্য সংরক্ষণ
নিরাপদ লেনদেন কাঠামোতথ্য সুরক্ষায় উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা
স্বয়ংক্রিয় হিসাব সমন্বয়আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও নিরীক্ষা কার্যক্রম সহজীকরণ

শিক্ষার্থী ব্যাংকিংয়ে অগ্রযাত্রা

ঢাকা ব্যাংক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তরুণ প্রজন্মকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ব্যাংকটি আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে চায়।

কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে, তাৎক্ষণিক তথ্য হালনাগাদ ও স্বয়ংক্রিয় হিসাব সমন্বয় পদ্ধতি প্রশাসনিক দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ সহজ হবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে শিক্ষা প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে এ অংশীদারিত্ব একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিরাপদ, দ্রুত ও শিক্ষার্থীবান্ধব আর্থিক সেবা প্রদানের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানই আধুনিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনার পথে অগ্রসর হলো।

Leave a Comment