দেশের ব্যাংকিং খাতে উদ্ভূত তীব্র তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সরবরাহ করেছে। এই অর্থ সাময়িকভাবে নতুন টাকা সৃষ্টির মাধ্যমে ছয়টি সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে।
গভর্নর জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছিল যে সময়মতো সহায়তা না পেলে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ড. মনসুর বলেন, “যখন সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে, তখন তাদের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমরা সেই আস্থাকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দিতে পারি না।” তার মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুধু ছয়টি ব্যাংক নয়, বরং পুরো আর্থিক খাতকে সম্ভাব্য ছড়িয়ে পড়া সংকট থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
📊 তারল্য সহায়তা কর্মসূচির সারসংক্ষেপ
| কারণ | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| জনআস্থা রক্ষা | আমানত নিরাপদ রাখার মাধ্যমে আতঙ্ক প্রতিরোধ |
| তারল্য সংকট | ছয়টি ব্যাংকে দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য পর্যাপ্ত নগদের ঘাটতি |
| সাময়িক টাকা সৃষ্টি | ২২,৫০০ কোটি টাকা সরবরাহ করে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা |
| আর্থিক স্থিতিশীলতা | পুরো ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো |
তবে গভর্নর সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতিতে অতিরিক্ত টাকা প্রবাহিত হলে মূল্যস্ফীতি ও বাজার বিকৃতির ঝুঁকি থাকে। সে কারণেই এই উদ্যোগকে সাময়িক, নিয়ন্ত্রিত ও লক্ষ্যভিত্তিক রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে তারল্য প্রবাহের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আরও বলেন, সংকট থেকে উত্তরণে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তাই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি দূর করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনর্গঠন জরুরি।
ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে গভর্নর জানান, রোববার, ১ ডিসেম্বর থেকে গ্রাহকরা ব্যাংকিং সেবার মান ও তারল্য পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। তিনি সব অংশীজন—ব্যাংকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের—সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এমন সংকট পুনরায় সৃষ্টি না হয়।
