থ্যালাসেমিয়া সেবায় ইস্টার্ন ব্যাংকের সহায়তা

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় Bangladesh Thalassemia Foundation-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা জোরদার করা এবং রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ফাউন্ডেশনের চিকিৎসাকেন্দ্রের অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের যোগাযোগ ও বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. সায়েদা মাসুমা রহমানের হাতে সহায়তার অর্থের চেক তুলে দেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসা অবকাঠামোর আধুনিকায়ন

এই অংশীদারিত্বের অধীনে রক্ত সংরক্ষণ, পৃথকীকরণ ও সঞ্চালন প্রক্রিয়া উন্নত করতে বিশেষায়িত চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় ও স্থাপনে অর্থায়ন করবে ব্যাংক। সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে শীতলীকৃত কেন্দ্রাতিগ যন্ত্র, প্লেটলেট সংরক্ষণ ইনকিউবেটর ও আন্দোলক, প্লাজমা হিমায়ন যন্ত্র এবং পূর্ণ রক্ত সংরক্ষণ রেফ্রিজারেটর।

থ্যালাসেমিয়া রোগীরা সাধারণত প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ অন্তর রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল। নিরাপদ তাপমাত্রা ও মানসম্মত সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকলে রক্তের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে রক্তের উপাদান পৃথকীকরণে নির্ভুলতা বাড়বে, অপচয় কমবে এবং রোগীদের জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

নিম্নে সহায়তার প্রধান ক্ষেত্রসমূহ তুলে ধরা হলো—

সহায়তার ক্ষেত্রসরঞ্জামের নামপ্রত্যাশিত প্রভাব
রক্ত উপাদান পৃথকীকরণশীতলীকৃত কেন্দ্রাতিগ যন্ত্রনির্ভুল ও নিরাপদ পৃথকীকরণ
প্লেটলেট সংরক্ষণইনকিউবেটর ও আন্দোলকপ্লেটলেটের কার্যকারিতা বজায় রাখা
প্লাজমা সংরক্ষণপ্লাজমা হিমায়ন যন্ত্রদীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সংরক্ষণ
পূর্ণ রক্ত সংরক্ষণরেফ্রিজারেটরনিরাপদ সঞ্চালন ও অপচয় হ্রাস

জাতীয় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬ থেকে ১২ শতাংশ মানুষ এই রোগের জিনের বাহক। প্রতিবছর বহু শিশু রক্তনির্ভর থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যা তাদের পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও মানসিক চাপে ফেলে। নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, লৌহ অপসারণ চিকিৎসা এবং জটিলতা ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

অধ্যাপক রহমান বলেন, আধুনিক রক্ত সঞ্চালন অবকাঠামো রোগীদের জীবনমান ও আয়ু বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরঞ্জাম স্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

জিয়াউল করিম উল্লেখ করেন, টেকসই সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ ব্যাংকের নীতিগত অঙ্গীকারের অংশ। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যখাতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সুফল বয়ে আনে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত ও টেকসই সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

Leave a Comment