দরপতনের সাথে লেনদেন খরা: ডিএসইতে ৩০৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে

দেশের পুঁজিবাজারে বৃহস্পতিবার বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। এই পতনের ফলে ডিএসইর প্রধান সূচকসহ সবকয়টি সূচক নিচের দিকে নেমে গেছে। পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে এদিন ডিএসইতে সবচেয়ে কম টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।

বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম দুই দিন টানা দরপতন হয়েছিল। তৃতীয় দিনে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বুধবার থেকে আবারও পতনের ধারা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। লেনদেনের আধা ঘণ্টা না যেতেই বিক্রির চাপে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। দিনশেষে ডিএসইতে অংশ নেওয়া ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩০৭টিরই দাম কমেছে। মাত্র ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে এবং ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

কোম্পানির ধরন অনুযায়ী লেনদেনের চিত্র নিচে একটি সারণীতে তুলে ধরা হলো:

কোম্পানির ধরনদাম বেড়েছেদাম কমেছেদাম অপরিবর্তিত
ভালো মান (১০% বা বেশি লভ্যাংশ)১৮টি১৬৮টি২৮টি
মাঝারি মান (১০% এর কম লভ্যাংশ)৬টি৬৭টি৩টি
মোট (সব মিলিয়ে)৩৪টি৩০৭টি৪৪টি

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৩৬৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা কম। লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, যার ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এরপরের অবস্থানে ছিল বিডি থাই ফুড (১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা) এবং শাহজিবাজার পাওয়ার (১২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা)। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট এবং টানা দরপতনের কারণে লেনদেনের এই খরা দেখা দিয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ১৭ নভেম্বরের পর ডিএসইতে এত কম লেনদেন আর হয়নি।

Leave a Comment