দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি

দেশে দীর্ঘমেয়াদি বাংলাদেশ সরকারী ট্রেজারি বন্ড (BGTB)-এর সুদের হার মঙ্গলবারও ঊর্ধ্বমুখী রেকর্ড করেছে। বছরের শেষ আর্থিক বন্ধ এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তহবিল সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করতে ইতস্তত করছে, যা বাজারে অবিশ্বাস এবং সংরক্ষণমূলক বিনিয়োগ মনোভাবকে প্রতিফলিত করছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিলামের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে, ১৫ বছরের BGTB-তে কাট-অফ রেট — যা কার্যকরী সুদের হার হিসেবে বিবেচিত হয় — ১০.৭৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০.৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২০ বছরের BGTB-তে এই হার ১০.৮২ শতাংশ থেকে ১০.৯০ শতাংশে ওঠেছে।

এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গত ২৫ নভেম্বরও লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যখন ১৫ বছরের BGTB-তে সুদের হার ১০.০৯ শতাংশ থেকে ১০.৭৪ শতাংশে এবং ২০ বছরের BGTB-তে ১০.৩০ শতাংশ থেকে ১০.৮২ শতাংশে বৃদ্ধি পায়। সেই নিলামের মাধ্যমে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, যা আংশিকভাবে বাজেট ঘাটতি পূরণে সহায়ক হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বছরের শেষ বন্ধের আগে ব্যাংকগুলো তাদের পোর্টফোলিও সযত্নে পরিচালনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিতে অতিরিক্ত তহবিল বিনিয়োগ করতে কম আগ্রহী। এছাড়াও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের অনিশ্চয়তা ব্যাংকগুলোর সংরক্ষণমূলক কৌশলকে প্রভাবিত করছে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, যদি বাজার অংশগ্রহণকারীরা স্বল্পমেয়াদি তরলতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে BGTB-র এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সামনের সপ্তাহগুলোতেও চলতে পারে।

বর্তমানে সরকারি পাঁচটি বন্ড বাজারে সক্রিয়ভাবে লেনদেনের আওতায় রয়েছে, যথা: ২, ৫, ১০, ১৫ এবং ২০ বছরের মেয়াদে। এছাড়াও স্বল্পমেয়াদি তহবিল (T-bill) নিলামের মাধ্যমে সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদি BGTB-র কাট-অফ রেটের বিবরণ দেওয়া হলো:

মেয়াদপূর্ববর্তী হার (%)সর্বশেষ হার (%)পরিবর্তন (bps)
১৫ বছরের BGTB10.7410.89+15
২০ বছরের BGTB10.8210.90+8

বাংলাদেশের ট্রেজারি সিকিউরিটি দেশের বাজেট ঘাটতি পরিচালনা এবং মুদ্রানীতি নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি উভয় ধরনের সিকিউরিটি সরকারের ঋণ সংগ্রহ কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত।

Leave a Comment