বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংকের এমডি ও সিইও নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালায় নতুন বিধান প্রবর্তন করেছে, যা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। নতুন প্রজ্ঞাপনের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক বিএসইসি, এবং বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক আইডিআরএ-র শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যাংকের এমডি বা সিইও পদে যোগ্য হতে পারবেন। তবে শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ২৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং তারা জাতীয় বেতন কাঠামোর দ্বিতীয় গ্রেডভুক্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হতে হবে।
প্রজ্ঞাপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, এমডি হওয়ার আগে প্রার্থীকে তিন বছর ডিএমডি বা এএমডি পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই শর্তটি আগে দুই বছর ছিল, এবং এর আগে কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না। নতুন বিধানকে কেন্দ্র করে অনেক অভিজ্ঞ ব্যাংকার হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডিএমডিরা বয়সসীমার কারণে এমডি হতে পারবেন না, ফলে কেবল নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীই উপকৃত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি ব্যাংকের ডিএমডি যুগান্তরকে বলেন, “এটি ব্যাংক খাতের জন্য অশনি সংকেত।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “তিন বছরের ডিএমডি-এএমডি অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার কারণ হলো, একজন এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে এমডি হন, তখন স্বার্থসংঘাত হবে না।”
তবে ব্যাংক খাতের অভিজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, নতুন বিধানের ফলে এমডি ও সিইও নিয়োগে স্বার্থসংঘাত দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রার্থী এবং বেসরকারি ব্যাংকের একাধিক প্রার্থী থাকলে, চূড়ান্ত নির্বাচনে সহকর্মীর প্রতি কিছুটা প্রাধান্য ও সহানুভূতি দেখা দিতে পারে। ব্যাংকের পর্ষদও প্রাক্তন নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
এটি ব্যাংক খাতের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ ও চ্যালেঞ্জ উন্মোচন করেছে। যদিও অতীতে কিছু বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি হয়েছেন, এতদিন এমন প্রণীত বিধান ছিল না। এখন বিধানটি কার্যকর হওয়ায় ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
