বাংলাদেশের ট্রেজারি বিল বা টি-বিলের আয় হার সাম্প্রতিকভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ঘটেছে প্রাথমিক ডিলারদের (Primary Dealers) জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রবর্তনের পরপরই। নতুন নীতি প্রধানত সরকারি সিকিউরিটিজের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বাজারকে সক্রিয় করার লক্ষ্য নিয়ে আনা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আচরণে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
সাম্প্রতিক নিলামের তথ্য অনুযায়ী, ৯১ দিনের টি-বিলের কাট-অফ হার (Effective Yield) ১০.০৫ শতাংশ থেকে ১০.৪০ শতাংশে উঠে গেছে। ১৮২ দিনের বিলের হার ১০.২৩ শতাংশ থেকে ১০.৩৪ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ৩৬৪ দিনের টি-বিলের হার ১০.৩৪ শতাংশ থেকে ১০.৪৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই নিলামের মাধ্যমে সরকার মোট ৭৫ বিলিয়ন টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা আংশিকভাবে বাজেট ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “নতুন প্রাথমিক ডিলার নির্দেশিকার অধীনে শুধুমাত্র প্রাথমিক ডিলার ব্যাংকরা নিলামে অংশ নিতে পারবে। এই সীমাবদ্ধতা টি-বিলের হারে উপরের দিকে চাপ সৃষ্টি করেছে।”
এর আগে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৪টি প্রাথমিক ডিলার নির্বাচিত করে মাধ্যমিক বাজারে সরকারি সিকিউরিটিজের লিকুইডিটি এবং ট্রেডিং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। এই ডিলাররা বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সরকারের ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে সরকার নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে চার ধরনের টি-বিল ইস্যু করে, যা স্বল্পমেয়াদী ঋণের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, দুই থেকে বিশ বছরের মেয়াদের পাঁচটি সরকারি বন্ড বাজারে ট্রেড হয়, যা ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করে।
সাম্প্রতিক টি-বিল নিলামের ফলাফল
| টি-বিলের ধরন | পূর্ববর্তী হার | বর্তমান হার | মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| ৯১ দিন | ১০.০৫% | ১০.৪০% | ৩ মাস |
| ১৮২ দিন | ১০.২৩% | ১০.৩৪% | ৬ মাস |
| ৩৬৪ দিন | ১০.৩৪% | ১০.৪৯% | ১২ মাস |
বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন প্রাথমিক ডিলার কাঠামো প্রতিযোগিতামূলক বিডিং বাড়াতে, নিলামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বাজারে মূল্য নির্ধারণ আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে। আগামী নিলামে এই হারের বৃদ্ধির ধারা স্থায়ী হবে কি না, তা বাজার পর্যবেক্ষকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
গত বছরের তুলনায় এই বৃদ্ধি নির্দেশ করছে যে, অংশগ্রহণ নিয়মের কঠোরতা এবং সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার প্রচেষ্টা উভয়ই বাজারে প্রভাব ফেলছে। ফলে, সামনের কয়েক মাসে বাংলাদেশের টি-বিল বাজার আরও সক্রিয় ও গতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
