নতুন ১০ টাকার নোটের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ

আজ, মঙ্গলবার, বাজারে এসেছে ১০ টাকার নতুন ব্যাংক নোট, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ সিরিজের অংশ। নতুন নোটটি প্রথমবারের মতো সাধারণ নাগরিকের জন্য ইস্যু করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতোমধ্যেই একই সিরিজের ১ হাজার, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে। আগামীতে সব মানের নোট পর্যায়ক্রমে নতুন ডিজাইনে বাজারে আনা হবে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরিত নতুন ১০ টাকার নোট প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হবে। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য কার্যালয় থেকেও নোট সরবরাহ করা হবে।

নতুন নোটের বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১০ টাকার নতুন নোটের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

বৈশিষ্ট্যবিবরণ
নোটের আকার১২৩ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার
সম্মুখভাগবাম পাশে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, মাঝখানে জাতীয় ফুল শাপলার ছবি
পেছনের ছবিগ্রাফিতি-২০২৪ এর ছবি
রঙপ্রধানত গোলাপি
নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যবেঙ্গল টাইগারের জলছাপ, উজ্জ্বল ইলেকট্রো টাইপে ‘১০’, বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম, ২ মিমি চওড়া নিরাপত্তা সুতা, সি-থ্রো ইমেজ, মাইক্রো প্রিন্টে বাংলাদেশ ব্যাংক লেখা, রং পরিবর্তন সক্ষম নিরাপত্তা সুতা

নোটের নিরাপত্তা সুতার মাধ্যমে ‘১০ টাকা’ লেখা আলোতে ধরা পড়বে এবং নোট নড়াচড়া করলে রঙ লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হবে। এছাড়া নোটে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নকল প্রতিরোধে কার্যকর।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, নতুন নোট চালুর পরও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগজ ও ধাতব মুদ্রা বৈধ থাকবে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য ১০ টাকার নমুনা (স্পেসিমেন) নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে, যা মিরপুরের টাকা জাদুঘর বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

নতুন নোটের প্রকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং এটি সাধারণ জনগণ ও মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য নতুন আগ্রহের সৃষ্টি করবে।

Leave a Comment