নাসডাকের পথে জাপানি ডিজিটাল পেমেন্ট জায়ান্ট পেপে

জাপানের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পেপে কর্পোরেশন (PayPay Corporation) বিশ্বখ্যাত মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জ নাসডাকে (Nasdaq) তালিকাভুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে আইপিও (IPO) বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব পেশ করেছে। ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, তারা নাসডাক গ্লোবাল সিলেক্ট মার্কেটে তাদের আমেরিকান ডিপোজিটরি শেয়ার (ADSs) তালিকাভুক্ত করার জন্য আবেদন জমা দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি জাপানি ফিনটেক খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পেমেন্ট বাজারে পেপে’র আধিপত্য

২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা পেপে মূলত সফটব্যাংক (SoftBank), ইয়াহু জাপান (Yahoo Japan) এবং ভারতের পেটিএম (Paytm)-এর যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল। কিউআর কোড ভিত্তিক পেমেন্ট পদ্ধতিতে জাপানকে ক্যাশলেস সোসাইটিতে রূপান্তর করতে পেপে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নাসডাকে তাদের প্রস্তাবিত শেয়ারগুলো ‘PAYP’ প্রতীকের অধীনে লেনদেন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল মার্কিন বাজারেই নয়, বরং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে।

নিচে পেপে কর্পোরেশনের আইপিও সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
প্রতিষ্ঠানের নামপেপে কর্পোরেশন (PayPay Corporation)
তালিকাভুক্তির বাজারনাসডাক গ্লোবাল সিলেক্ট মার্কেট (Nasdaq Global Select Market)
প্রস্তাবিত ট্রেডিং সিম্বলPAYP
আইপিও’র ধরণআমেরিকান ডিপোজিটরি শেয়ার (ADSs)
যুগ্ম বুক-রানিং ম্যানেজারগোল্ডম্যান স্যাকস, জে.পি. মর্গান, মিজুহো সিকিউরিটিজ এবং মর্গান স্ট্যানলি
নিবন্ধনের তারিখ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বৈশ্বিক সম্প্রসারণ ও কৌশলগত পরিকল্পনা

পেপে’র এই আইপিও আবেদনের সময়কালটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে জাপানে ডিজিটাল পেমেন্টের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পেপে ইতিমধ্যে কয়েক কোটি গ্রাহকের ভিত্তি তৈরি করেছে। নাসডাকে তালিকাভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে চায় এবং সংগৃহীত মূলধন তাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যয় করবে।

আইপিও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পেপে জাপানের ‘কান্তো লোকাল ফিন্যান্স ব্যুরো’-তে একটি সিকিউরিটিজ রেজিস্ট্রেশন স্টেটমেন্ট দাখিল করেছে। এর ফলে জাপানি নাগরিকরাও এই গণপ্রস্তাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। গোল্ডম্যান স্যাকস এবং জে.পি. মর্গানের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিনিয়োগকারী ব্যাংকগুলো এই প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনায় থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিচ্ছে। তবে আইপিও’র সুনির্দিষ্ট সময়সীমা, শেয়ারের সংখ্যা এবং মূল্যসীমা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

যদিও পেপে জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে, তবে নাসডাকের মতো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সফল হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে অ্যাপল পে এবং গুগল পে-র মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপরীতে নিজেদের লাভজনক প্রমাণ করা তাদের জন্য আবশ্যক। বিশ্লেষকদের মতে, পেপে’র বর্তমান প্রবৃদ্ধি এবং সফটব্যাংকের জোরালো সমর্থন তাদের এই যাত্রাকে সফল করতে সহায়ক হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, প্রস্তাবিত এই অফারটি কেবল প্রসপেক্টাসের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

Leave a Comment