দুই মাসের বিরতির পর, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) গত সপ্তাহে কিছুটা গতি দেখেছে। ২৬ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এক্সচেঞ্জটির সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। যদিও বাজারের সূচক কমে গেছে এবং অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম পতন হয়েছে, তবুও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিএসইর গত কয়েক সপ্তাহের লেনদেনের তুলনায় এবারের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছিল ৬ হাজার ৪৯১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৫ হাজার ৭২৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার চেয়ে ১৩.৩০ শতাংশ বেশি। তবে পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে লেনদেনের পরিমাণ ক্রমাগত কমে যেতে থাকে। ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত লেনদেন ছিল ৫ হাজার ৭৪৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা, তার পরবর্তী সপ্তাহে (১৪-১৮ সেপ্টেম্বর) ৩ হাজার ৫০৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, এবং ২১-২৫ সেপ্টেম্বর লেনদেন ২ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় নেমে আসে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটির কারণে সপ্তাহের লেনদেন ছিল এক হাজার ৮৬০ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহ (৫-৯ অক্টোবর) লেনদেন দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকায়, যা আগের সপ্তাহের ৩ কার্যদিবসের তুলনায় কম ছিল। পরের সপ্তাহে (১২-১৬ অক্টোবর) লেনদেন আরও কমে গিয়ে ২ হাজার ৬১১ কোটি ১২ লাখ টাকায় নেমে আসে। ১৯-২৩ অক্টোবর পর্যন্ত লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা ১৮.০৯ শতাংশ কম। তবে, গত সপ্তাহ (২৬-৩০ অক্টোবর) সাপ্তাহিক লেনদেন ১৪৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা হয়েছে।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার চিত্র অনুযায়ী, ২৬-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩৯২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৭টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, ১৭৯টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে এবং ৩৬টি কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে সব সূচকেই পতন ঘটেছে। ডিএসইএক্স সূচক ২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১২২ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮৮ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস সূচক ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
তবে, সূচকে পতন সত্ত্বেও, ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। এক্সচেঞ্জটির গড় দৈনিক লেনদেন গত সপ্তাহে ছিল ৪৫৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মানে, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ২৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বা ৬.৯৩ শতাংশ বেশি লেনদেন হয়েছে। সাপ্তাহিক ব্যবধানে, ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা বা ০.৮২ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৭ লাখ ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার তুলনায় কিছুটা কম।
এদিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর পরিস্থিতি বেশ স্থিতিশীল। গত সপ্তাহে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ০.৮৮ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ২৮৬ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক ০.৭৮ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৮১৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। এছাড়া সিএসআই সূচক ০.৯৮ শতাংশ কমে ৮৯৯ পয়েন্টে এবং সিএসই-৫০ সূচক ১.৩৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। সিএসই-৩০ সূচক ০.৬০ শতাংশ কমে ১২ হাজার ৬৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৩০৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১৫টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, ১৭০টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে এবং ২১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন বেড়েছে ৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
তবে, যদিও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে, বাজারে স্থিতিশীলতার জন্য আরও কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
