সরকার জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩,৪৩৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করেছে, তুলনায় ঋণ নেওয়া হয়েছে কম।
প্রধান কারণসমূহ:
উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমানো এবং সরকারি সিকিউরিটিজের উপর সুদের হার হ্রাস পাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণের চাহিদা কমে গেছে।
ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার পরিবর্তে সরকারের ঋণ বেড়েছে অ-ব্যাংক খাত থেকে, যা ১২,৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
প্রথম কোয়ার্টারে সরকারের উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ৫% ব্যয় হয়েছে।
প্রাইভেট সেক্টরের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৬.২৯%-এ, যা গত ৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বর্তমান ধীর গতি দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থবিরতার এবং বিনিয়োগের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের মধ্যে সরকার ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নেয়নি, বরং ৩,৪৩৯ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে।
সরকারি ব্যয় কমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সরকারের নতুন কোনো বড় প্রকল্প নেই। এ ছাড়া, আমদানি কমে যাওয়ায় ঋণের চাহিদাও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “নতুন সরকার আসলে এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, সরকারের ঋণ চাহিদা বাড়বে।”
এ বছরের জন্য সরকারের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১.০৪ লাখ কোটি টাকা, কিন্তু প্রথম ৪ মাসে ঋণ নেয়া হয়েছে মাত্র ৯,০৬২ কোটি টাকা, যা বার্ষিক লক্ষ্য থেকে মাত্র ৮.৭১%।
অ-ব্যাংক খাতে ঋণ বৃদ্ধি
সরকার যে প্রচলিতভাবে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়, এবার তা কমে গিয়ে অ-ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়া বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এখন অনেক ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এবং কর্পোরেট বিনিয়োগকারী সরকারি বন্ড ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করছে।”
প্রাইভেট সেক্টরের ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রাইভেট সেক্টরের ঋণ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি কোনো আশ্চর্যজনক বিষয় নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ধীর চাকরি সৃষ্টির কারণে দেশীয় চাহিদা কমে গেছে, যার ফলশ্রুতিতে ব্যবসাগুলোর ঋণের চাহিদাও কমেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাইভেট সেক্টরের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.২৯% হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এই সমস্ত কারণে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মনিটরিং চালিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি বোঝা যায়।
