চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে দেশের প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি ও ব্যাংকিং সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১–১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ১,৮০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ে পাওয়া ১,৪৯০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২১.২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে প্রায় ৩১৭ মিলিয়ন ডলারের বৃদ্ধি হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ পর্যন্ত সামগ্রিক হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ২১,২৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭,৪৫২ মিলিয়ন ডলার। ফলে বছরের তুলনায় প্রবাসী আয় বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১.৭ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং চলমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিচের টেবিলে প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো:
| সময়কাল | রেমিট্যান্স (মিলিয়ন ডলার) | আগের বছরের একই সময় (মিলিয়ন ডলার) | প্রবৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| ১–১৬ ফেব্রুয়ারি | ১,৮০৭ | ১,৪৯০ | ২১.২ |
| জুলাই–১৬ ফেব্রুয়ারি | ২১,২৪০ | ১৭,৪৫২ | প্রায় ২১.৭ |
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া জানুয়ারি মাসে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল শক্তিশালী। পুরো জানুয়ারি জুড়ে দেশে পাঠানো হয়েছে ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রতি ডলার ১২২ টাকার হার অনুযায়ী প্রায় ৩৮,৬৭৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ। সাম্প্রতিক সময়ে একক মাসে এই রেমিট্যান্স অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করছে। সরকারের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর জন্য প্রণোদনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি লেনদেন নিরুৎসাহিত করার পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় কর্মরত প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণও এই প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে, প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের অবদান বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, সামনের মাসগুলোতেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও দৃঢ় হবে।
