চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম তিন দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিণত করলে দাঁড়ায় ৩৫১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় ৩৭.১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন দিনের প্রবাসী আয়ের পরিসংখ্যান এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনা নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল | প্রবাসী আয় (মার্কিন ডলার) | প্রবাসী আয় (বাংলাদেশি টাকা, কোটি) | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| ১–৩ জানুয়ারি ২০২৫ | ২১ কোটি ডলার | ২৫৬২ কোটি টাকা | – |
| ১–৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৮.৮০ কোটি ডলার | ৩৫১৩.৬০ কোটি টাকা | ৩৭.১০% |
আরিফ হোসেন খান আরও জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ হয়েছে ১,৬৫৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২,০১৮ হাজার কোটি টাকার সমান। এই সময়ে গত বছরের একই সময়ের রেমিট্যান্স ছিল ১,৩৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা থেকে বোঝা যায়, প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২৫.৪ শতাংশ।
| সময়কাল | প্রবাসী আয় (মার্কিন ডলার) | প্রবাসী আয় (বাংলাদেশি টাকা, কোটি) | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| ১ জুলাই ২০২৪ – ৩ জানুয়ারি ২০২৫ | ১,৩৯৮.৭ কোটি | ১,৭০,৫৯১ কোটি | – |
| ১ জুলাই ২০২৫ – ৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১,৬৫৫.৩০ কোটি | ২,০১৮,০০৬ কোটি | ২৫.৪% |
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় অবস্থানরত শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ। বিশেষ করে খরচ ও মূলধন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদেশে থাকা কর্মীরা পরিবারের জন্য আরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ এবং স্থিতিশীল অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
