বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং নতুন রূপান্তরের পথে প্রবেশ করছে। ক্রমবর্ধমান গ্রাহক প্রত্যাশা, দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ডিজিটাল আর্থিক পরিবেশ এই পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি। বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকরা সহজ, স্বচ্ছ এবং মূল্যভিত্তিক আর্থিক সমাধানের প্রত্যাশা করছে। এই প্রেক্ষাপটে খাতটি আধুনিকায়ন ও উদ্ভাবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে এবং প্রযুক্তিকে মূল হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের সুযোগ গ্রহণ করছে।
বিশ্বব্যাপী আর্থিক ব্যবস্থায় ডিজিটালীকরণ মানুষ কীভাবে সঞ্চয়, লেনদেন, বিনিয়োগ এবং আর্থিক দায়িত্ব পালন করে তা পরিবর্তন করছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। মোবাইল সংযোগ, ডিজিটাল লেনদেন, স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৃদ্ধির কারণে ইসলামী ব্যাংকিং আরও কার্যকর ও নৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সেবা প্রদানের সুযোগ পাচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যন্ত্র শিক্ষণ, ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ এবং স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাংকিংকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলছে। এর মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি, সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং শারিয়াহ নীতি অনুসরণে সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছে। গ্রাহকরা ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে আরও সহজ, নিরাপদ এবং তথ্যভিত্তিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা পাচ্ছে।
ডিজিটাল-প্রথম মডেলটি বাংলাদেশের আর্থিক অংশগ্রহণ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যক্তি, উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সহজলভ্য, ব্যবহারবান্ধব এবং জবাবদিহিমূলক শারিয়াহ-সম্মত সমাধানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশ উচ্চ মোবাইল গ্রহণযোগ্যতা, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং মূল্যভিত্তিক আর্থিক সমাধানে আগ্রহের কারণে এই খাতে আঞ্চলিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা প্রবৃদ্ধি উদ্দীপিত এবং শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় সেবা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
এজে
