প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল। পাশাপাশি তিনি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও বনানী শাখা ইকবালের মালিকানাধীন ইকবাল সেন্টারে অবস্থিত। এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এদিকে ব্যাংকটি ইকবাল সেন্টার ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভবনের জন্য নতুন জায়গা খুঁজে নেওয়ার আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মকর্তারা গুলশান ও বনানী এলাকায় প্রধান কার্যালয়ের জন্য নতুন জায়গা খুঁজছেন। এই পরিস্থিতিতে বনানীর ইকবাল সেন্টার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। উল্লেখযোগ্য, এই ভবনে পূর্বেও বিভিন্ন সময় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আটকে রাখার ঘটনা গণমাধ্যমে খবর হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল। গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর গত আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিতে নতুন পর্ষদ গঠন করে। এরপর থেকে ব্যাংকে এইচ বি এম ইকবালের বেনামি ঋণ, কেনাকাটা, ভাড়া এবং অন্যান্য অনিয়মের তথ্য উঠে আসছে।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন পর ব্যাংকে ফিরে এসেছি। এরপর নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। হুমকিও পাচ্ছি, তবু কাজ করে যাচ্ছি। খরচ কমাতে প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখা সরিয়ে দেওয়া হবে।”
জিডিতে যা বলা হয়েছে
প্রিমিয়ার ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) শাহেদ সেকান্দার ১৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের পক্ষে বনানী থানায় জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০:০৮ মিনিটে ফোন করে ৩১ মিনিট কথা বলেন এবং একই দিন রাত ১০:৪৭ মিনিটে আরও ২ মিনিটের জন্য ফোন করেন। এ সময় তিনি ইকবাল সেন্টার এবং গুলশানের রেনেসাঁ হোটেলে থাকা গুলশান শাখার ভাড়া ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে পরিশোধ করতে বলেন। অন্যথায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান ও এমডি মোহাম্মদ আবু জাফরের জন্য সমস্যা হবে এবং এমডি মোহাম্মদ আবু জাফরের বাড়ি ‘ভ্যানিশ’ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং যেকোনো সময় যেকোনো ঘটনা ঘটতে পারে বলে কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্বে অফিসে আসতে নির্দেশ দেন।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা ৩:৪৭ মিনিটে এইচ বি এম ইকবাল আবারও ফোন করেন। এ সময় তিনি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভাড়া না দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান চেয়ারম্যান ও এমডির জীবননাশের হুমকি দেন এবং যেকোনো ধরনের সহিংস ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এইচ বি এম ইকবাল চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে অগ্রিম ভাড়া হিসেবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ফলে প্রতি মাসে নিয়মিত ভাড়া দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া ভবনের ভাড়া বাজারমূল্যের দ্বিগুণ নেওয়া হয়েছে। এই কারণে প্রিমিয়ার ব্যাংক ইতিমধ্যেই তার সব স্থাপনা ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে, এইচ বি এম ইকবাল ফোনে সাড়া দেননি।
