বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংকে গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটেছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আবু জাফর বৃহস্পতিবার ছুটিতে যাওয়ার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে চলতি দায়িত্বের এমডি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নিয়ামত উদ্দিন আহমেদকে। রোববার ব্যাংকের বোর্ড এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন করে।
আজ সোমবার রাতে প্রথম আলোকে তিনি জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে অস্থায়ীভাবে এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ব্যাংকের গ্রাহক, কর্মকর্তা–কর্মচারী এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাব। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ধরে রাখতে এবং নতুন উদ্ভাবনী সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।”
ব্যাংক সূত্র মতে, নিয়ামত উদ্দিন আহমেদের পেশাগত যাত্রা দুই যুগেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ২৮ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতায় তিনি দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে নেতৃত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পর ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট, করপোরেট ফিন্যান্সিং, রিটেইল ব্যাংকিং ও অপারেশন ম্যানেজমেন্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এর আগে তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেন।
নিয়ামত উদ্দিন আহমেদ ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ব্যাংকিং ক্যারিয়ার আরও সুসংহত করতে ২০২৪ সালে ব্যবসায় প্রশাসনে মাস্টার্স (MBA) ডিগ্রি অর্জন করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে। ১৯৬৯ সালে খুলনায় জন্ম নেওয়া এই ব্যাংকার প্রিমিয়ার ব্যাংকের লার্নিং অ্যান্ড ট্রেনিং ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের একজন প্রশিক্ষক হিসেবেও পরিচিত, যেখানে তিনি আধুনিক ব্যাংকিং পদ্ধতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
উল্লেখযোগ্য যে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন শুরু হয় ২৪ এপ্রিল, ২০২৪ সালে। তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের সময়ে মোহাম্মদ আবু জাফর ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে নিয়োগ পান। তবে একই বছরে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকের শীর্ষপর্যায়ে পরিবর্তন আসে এবং ইকবাল ব্যাংকে আর ফিরে আসতে পারেননি। চলতি বছরের ২১ আগস্ট প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের অভ্যন্তরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল সেবা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
