চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দুই দিনেই দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৩২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা অর্থনীতিতে একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা দিচ্ছে। এই দুই দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থপ্রবাহে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, গত বছরের একই দুই দিনে তা ছিল মাত্র ১৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, হুন্ডি দমনে সরকারি উদ্যোগ এবং প্রবাসীদের আস্থার উন্নয়ন এই প্রবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৯৭৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে এবং আমদানি ব্যয় মেটানো ও মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
এর আগে জানুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই মাসে দেশে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জানুয়ারির এই সাফল্য ফেব্রুয়ারির শুরুতেও ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, পুরো ২০২৪–২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয়ের রেকর্ড। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য উন্নত হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।
রেমিট্যান্সের সাম্প্রতিক চিত্র (মার্কিন ডলার)
| সময়কাল | রেমিট্যান্সের পরিমাণ |
|---|---|
| ফেব্রুয়ারি (প্রথম ২ দিন) | ৩২ কোটি ৬০ লাখ |
| গত বছর একই সময় | ১৭ কোটি ৭০ লাখ |
| জানুয়ারি ২০২৫ | ৩১৭ কোটি ৯ লাখ |
| জুলাই–২ ফেব্রুয়ারি (২০২৪–২৫) | ১ হাজার ৯৭৫ কোটি ৯০ লাখ |
| পুরো ২০২৪–২৫ অর্থবছর | ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন |
সব মিলিয়ে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং সামনের মাসগুলোতেও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
