বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় অস্থিরতার পর তিনটি বেসরকারি ব্যাংক—ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), আইএফআইসি ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ—আমানত পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই তিন প্রতিষ্ঠানের পূর্বের বোর্ড ভেঙে দিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত নিয়ন্ত্রকদের শেয়ার জব্দ করে নতুন বোর্ড নিয়োগ করে। এর পর থেকেই ব্যাংকগুলোতে জনআস্থা ফিরতে শুরু করে।
২০২৫ সালের প্রথম ১০ মাসে তিন ব্যাংকই দ্বিগুণ অঙ্কের আমানত বৃদ্ধি অর্জন করে; যা দেশের মোট ব্যাংকিং খাতে তাদের ১৫% যৌথ অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই প্রবাহিত আমানতের ওপর ভর করে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তারা এখনও বড় বাধার মুখে—তীব্র পুঁজি ঘাটতি। নতুন আমানত থাকলেও পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে বা প্রযুক্তি উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ করতে পারছে না।
ইউসিবি একাই জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে Tk ১০,০০০ কোটি নতুন আমানত পেয়েছে, যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের সংগ্রহের চেয়ে দু’গুণেরও বেশি। খুচরা গ্রাহকরা তাদের মোট আমানতের ৫৬% দিচ্ছেন—যা জনগণের আস্থা ফিরে আসার বড় দৃষ্টান্ত। কিন্তু তাদের CRAR এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার ন্যূনতম ১০% এর নিচে, মাত্র ৭.৬৯%। Tk ৭৭৫ কোটি রাইট শেয়ার এবং Tk ৮০০ কোটি বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব চার মাস ধরে বিএসইসির অনুমোদন না পাওয়ায় ব্যাংকটি নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারছে না।
ইসলামী ব্যাংকও Tk ১৯,০০০ কোটি নেট আমানত প্রবাহের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধিও তাদের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে S Alam Group-এর নামে থাকা ৮২% শেয়ার আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় তারা এখনই নতুন বিনিয়োগকারী আনতে বা পুঁজি বাড়াতে পারছে না।
একইভাবে আইএফআইসি গত এক বছরে Tk ৬,০০০ কোটি নতুন আমানত পেয়েছে। সরকার ব্যাংকটির ৩০% শেয়ারধারী হওয়ায় তারা সরকারি পুঁজির সহায়তা আশা করছে। একই সঙ্গে এসএমই ঋণ ও গ্রামীণ সাব-ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাইক্রোফিন্যান্সে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে।
তিন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন বোর্ড ও নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের পর দুর্নীতির টাকা পাচার বন্ধ হওয়ায় ব্যাংকগুলোতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে, কিন্তু মূলধন ঘাটতি দূর না হলে এই পুনরুদ্ধার স্থায়ী হবে না। তারা মনে করছেন, পুঁজিবাজারে দ্রুত অনুমোদন, নতুন কৌশলগত বিনিয়োগকারী এবং নিয়মকাঠামোর নমনীয়তা ছাড়া টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
| বিষয় | পরিমাণ | সময়কাল |
|---|---|---|
| ইউসিবির নতুন ডিপোজিট | Tk 10,000 কোটি | জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| ইউসিবির মোট ডিপোজিট | Tk 63,000 কোটি | সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে |
| ইউসিবির প্রস্তাবিত রাইট শেয়ার | Tk 775 কোটি | – |
| ইউসিবির প্রস্তাবিত বন্ড | Tk 800 কোটি | – |
| ইসলামী ব্যাংকের নেট ডিপোজিট প্রবাহ | Tk 19,000 কোটি | প্রথম ৯ মাস, ২০২৫ |
| ইসলামী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি | Tk 86,000 কোটি | – |
| আইএফআইসির নতুন ডিপোজিট | Tk 6,000 কোটি | গত এক বছর |
| আইএফআইসির মোট ডিপোজিট | Tk 51,000 কোটি | সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে |
